পুতিন ক্ষমতা হারানোর অনেক দরজা খুলেছেন

স্বদেশ রায়কীভাবে যে একটা নতুন ইতিহাস, নতুন যুগ যুদ্ধের ভেতর দিয়ে সৃষ্টি হবে তা কেউ কখনও বলতে পারেন না। যুদ্ধ অনেকটা জুয়া খেলার মতো, জুয়াড়ি যে হিসাব করে তার জুয়ার দান ধরতে যায়, বাস্তবে কখনোই তা মেলে না। হিটলার বোকা ছিলেন না। কিন্তু ক্ষমতায় অন্ধ হয়ে তিনি এই জুয়া খেলায় নামার পরে পৃথিবীর ইতিহাসের গতি শেষাবধি যেখানে গিয়েছিল; শুরুতে অনেকেই তা বুঝতে পারেননি, হিটলারও পারেননি। ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান সফলভাবে বিমান আক্রমণ চালিয়ে আমেরিকার পার্ল হারবার বন্দর প্রায় ধ্বংস করে দেয়। ওই হামলার সফল নায়ক এডমিরাল ইমামোতো তাঁর ডায়েরিতে লিখছেন, “ সফল বোমা হামলার পরে আমার মনে ভয় জেগেছিল, এই বোমা হামলার ভেতর দিয়ে আমরা একটি ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগিয়ে তুললাম। এখন এই দৈত্য জাগার পরে এর পরিসমাপ্তি কী ভয়াবহভাবে হবে তা কে জানে?”

জাপানের সেদিনের এই জুয়ার হিসাবে বড় ভুল ছিল। তারা কখনোই মনে করতে পারেনি, কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন আর ইউরোপীয় শক্তি ব্রিটেনের সঙ্গে আমেরিকার ঐক্য হবে। আর জাপান এশিয়ায় যে দেশগুলো জয় করেছিল এবং জার্মান ইউরোপে যে দেশগুলো  জয় করেছিল, ওই সব দেশের মানুষ মাটি কামড়ে ওভাবে প্রতিরোধ যুদ্ধে নামবে এটা জাপান ও জার্মানি কেউ বুঝতে পারেনি। আর সত্যিই এডমিরাল ইমামোতের ধারণা সত্যে পরিণত করে, জাপানের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল ভয়াবহভাবে।

পুতিনও ইউক্রেন আক্রমণ করার আগে হিসাবে ভুল করেছেন, ইউরোপীয় ঐক্য নিয়ে। আমেরিকা ও ইউরোপ যে পৃথিবীজুড়ে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে এত বড় ঐক্য গড়ে তুলতে পারবে, পুতিনের কাছে এ বিষয়ে তথ্য ভুল ছিল। তাঁর কাছে তথ্য ছিল এত বড় ঐক্য হবে না। ইউরোপই ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না। এমনকি এখনও পুতিন অনেক বড় ভুলের মধ্যে আছেন। তিনি মনে করছেন, যে ৩৫টি দেশ জাতিসংঘে ভোটদানে বিরত ছিল তারা পক্ষান্তরে তার পক্ষে। এই ৩৫ দেশের মধ্যে বড় দেশ ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ অবধি আমেরিকা-ইউরোপের এই জোটে যেতে বাধ্য হবে। কারণ, পুতিন যেদিন যুদ্ধ শুরু করেছেন সেদিনই ইমরান খান রাশিয়ায় গিয়েছেন। এখন সেই ইমরান খানের আম্পায়ারও আঙুল উঁচু করেছেন।

অন্যদিকে, ভারত যদি মনে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সেও রাশিয়ার বিপক্ষে ভোটদানে ভবিষ্যতে বিরত থাকবে, তাহলে তাকে এ কথাও মনে করতে হবে, রাশিয়ার মতে ইউক্রেন আক্রমণ যেমন বৈধ তাকে মেনে নিতে হবে, তেমনি মেনে নিতে হবে চীন যে ভারতের লাদাখ আক্রমণ করেছিল ও ভবিষ্যতে করতে চায় তা বৈধ। তাই ভারতকে দ্রুতই চীন ও রাশিয়ার এই মৈত্রী অবস্থানের ক্ষেত্রে নিজেকে স্পষ্ট করতে হবে। ইন্দোনেশিয়া বেশ কিছু দিন হলো চীনের ঋণের ফাঁদ নিয়ে কথা বলছে তাদের নিজ দেশের ক্ষেত্রে। তাছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিকে, ও সাউথ চীন সি’র সম্পদের হিস্যার ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থ দেখতে হলে তাকে ইন্দো-প্যাসিফিক জোটেই আসতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকারও বাণিজ্যসহ নানান স্বার্থে একই পথ নিতে হবে। তাই ভবিষ্যতে রাশিয়াবিরোধী জোট ১৪১ থেকে অতি সহজে যে ১৫০ ছাড়িয়ে যাবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাছাড়া গত সপ্তাহে বাইডেন ও চীনের বৈঠক নিয়ে অনেক কিছু বিশ্লেষণের আছে। তবে সব থেকে বড় বিষয়টি, চীনের নেতা বলেছেন (চীনের ভাষ্য অনুযায়ী) তারা আমেরিকার সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায়। নিঃসন্দেহে রাশিয়ার জন্যে এটা একটা বার্তা।

তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যারা শুরু করেছিল তারা যেমন জোট ও আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিরোধ সম্পর্কে ভুল হিসাব করেছিল, রাশিয়াও সেই একই ভুল করছে। বর্তমানের পৃথিবীতে এটাকে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বা ‘দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ’ যাই বলা হোক না কেন, গত প্রায় পাঁচ সপ্তাহে প্রমাণিত হয়ে গেছে রাশিয়ার, বিশেষ করে পুতিনের গোয়েন্দা রিপোর্ট ভুল ছিল। এবং সে তার বন্ধু চীনকেও ভুল রিপোর্ট দিয়েছিল।

সবকিছু পর্যালোচনা করে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সবাই মনে করছেন, পুতিনের কাছে রিপোর্ট ছিল, এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি বা তাঁর বাহিনী ইউক্রেন জয় করে নিতে পারবেন। আর ওই এক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকা কোনোমতেই ‘শক্ত পাথর ঐক্য’ গড়তে পারবে না- যা রাশিয়া এবং চীনের দুই নেতার অলিম্পিক বৈঠকের মধ্যে দিয়ে হয়েছে। তাছাড়া তারা মোটেই ধারণা করেনি যে ইউক্রেনে এত বড় প্রতিরোধ হবে। যে কারণে চীন পুতিনকে অলিম্পিক শেষ হলে আক্রমণ শুরু করতে বলে। আর ইমরান খানও আক্রমণের দিন অতি উৎসাহে রাশিয়ায় যান। ইমরানও বুঝতে পারেনি, তার আম্পায়ার সে নিজে নন, জনগণ নন- সেনাবাহিনী। আর সেই সেনাবাহিনী এখনও আর যাই হোক চীন বা সে নিজে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

অন্যদিকে এখন বিষয়গুলো স্পষ্ট যে ইউক্রেনের এই যুদ্ধ কয়েক মাস বা বছর গড়াতে পারে। এবং সেখানে ইউক্রেনবাসী প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে যেমন আমেরিকা এক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রসহ অন্যান্য সাহায্য দিচ্ছে, এমনটি আসবে জাপান, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেকের কাছ থেকে। পাশাপাশি আমেরিকা, ইউরোপ ছাড়াও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশ পুতিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে। আর ঐক্যবদ্ধ দেশগুলো পুতিনের রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধের যুদ্ধটাই সব থেকে বড় আকারে করবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পার্থক্য ছিল সমরাস্ত্রে ও রণকৌশলে। এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হোক আর দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ হোক, এর মূল অস্ত্র যে অর্থনীতি আর তথ্য প্রযুক্তি, তা ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে পুতিন ইতোমধ্যে তাঁর মূলশক্তিতে হেরে গেছেন। এই মূলশক্তি তাঁর তেল ও গ্যাস। পৃথিবীর পাঁচভাগ তেল সরবরাহ করে রাশিয়া। ইউরোপের ৩৪ ভাগ গ্যাস তারা সরবরাহ করে। যুদ্ধ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তরল গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পুতিন খুব উৎসাহী হয়েছিলেন। রাশিয়ার নেতার আচরণ প্রমাণ করছিল, তেল গ্যাস নিয়ে তারা পৃথিবীকে সমস্যায় ফেলে দিতে পারবে। কিন্তু এক সপ্তাহের সামান্য বেশি সময়ের মধ্যে তেল ও গ্যাসের সমাধান আমেরিকা ও ইউরোপীয় জোট করে ফেলেছে। রাশিয়ার সেখানেও হিসাব ভুল হয়েছে, হুগো শ্যাভেজের ভেনিজুয়েলা ও নিকোলাস মাদুরোর ভেনিজুয়েলা এক নয়। আমেরিকার পক্ষে এই ভেনিজুয়েলার সঙ্গে তেলের সমঝোতায় যাওয়া কোনও জটিল বিষয় নয়।

আমেরিকা ও ইউরোপ তেল ও গ্যাসের সমস্যার এই সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরে মূলত রাশিয়ার তেলের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থই এখন পুতিনের সব থেকে বড় শত্রু। পুতিন নিশ্চয়ই ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন, তার চেয়ে অনেক জনপ্রিয় নেতা ইরানের মোহাম্মদ মোসাদিকে ১৯৫৫ সালে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল শুধু এই ইরানের তেলের স্বার্থে হাত দিয়ে। নির্বাচনের ভেতর দিয়ে আসার পরে ইরানের শাহ মোসাদিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ইরানের তেল সম্পদকে রাষ্ট্রীয়করণ করতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথিবীর বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো নেমে পড়ে। যাদের চাপে শাহ তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন। মোসাদি জনপ্রিয় ছিলেন, তিনি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজের ক্ষমতা ফিরিয়ে নেন। কিন্তু চারদিনের ভেতর সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা গণঅভ্যুত্থানের  মাধ্যমে মোসাদির ক্ষমতা চলে যায়। শাহ আবার ক্ষমতায় আসেন। এই পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটায় ব্রিটিশ তেল কোম্পানিসহ ইরানের যাদের তেলের ব্যবসার সঙ্গে স্বার্থ জড়িত ছিল তারাই।

পুতিনের মাথার ওপর এখন রাশিয়ার তেল ব্যবসায়ের সঙ্গে তার দেশের ভেতর ও বাইরে যাদের স্বার্থ জড়িত তারা তাদের খড়গ ইতোমধ্যে ঝুলিয়ে দিয়েছে। আর যাই হোক, পুতিন ইরানের মোসাদির মতো জনপ্রিয় নন। তাই রাশিয়ার তেলের সঙ্গে দেশে ও বিদেশে যাদের স্বার্থ জড়িত তাদের জন্যে এ কাজটি মোসাদিকে যেভাবে সরিয়েছিল তার থেকে সহজ হতে পারে। এখন সেটা কবে হবে, কোন মুহূর্তে হবে তা এখনই বলা যায় না। শুধু বলা যায়, পুতিনের ক্ষমতা হারানোর অস্ত্রটি এখন তার দিকে শানিত হয়ে তাক করা আছে।

এখন ইরানে যেমন মোসাদিকে ব্যর্থ করে দিয়ে শাহ ফিরে এসেছিলেন, রাশিয়ায় পুতিনকে সরিয়ে কে আসবে বা কার কার আসার সম্ভাবনা আছে সে বিষয়ে যাওয়ার আগে ইতিহাসের আরও একটি বিষয় দেখে নেওয়া দরকার। ১৯০৪-০৫-এর জাপান-রাশিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল হয়ে যাওয়ার পরেই কিন্তু বলশেভিকদের বিপ্লবের গতি দ্রুত এগোয়। প্রথমটা ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয়বারে গিয়ে আর ব্যর্থ হয়নি। ঠিক তেমনি রাশিয়ার যে দুর্বল অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে বলশেভিকরা সফল হয়েছিল, রাশিয়ার রাজনীতি বদলে গিয়ে পৃথিবীতে নতুন বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, রাশিয়া থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়েছিল, ওই সোভিয়েত ইউনিয়নের ধ্বংস হওয়ার মূলেও যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে যাওয়া। ১৯৭৯ থেকে ৮৯ অবধি দশ বছর আফগানিস্তানে যুদ্ধ করে সোভিয়েত অর্থনীতি এতই দুর্বল হয়ে গিয়েছিল যে রুবলের জন্যে, রুটির জন্যে তাদের মেয়েরা শেষ অবধি দুয়ারে দুয়ারে রাতে টোকা দিতো। আর সেই দুর্বল অর্থনীতির কারণেই একসময়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ইউরোপের অনেকে অবশ্য মনে করে, এখানে কালচার একটা বড় বিষয়, রাশিয়া পূর্ব ইউরোপীয় এবং এশীয় দেশ হলেও এর কালচার ইউরোপের। তাই একে ইউরোপের আদলেই রক্ষা করতে হবে। তাদের বড় ঘরের ছেলেমেয়েরা এখনও ইউরোপেই পড়াশোনা করে। বড় ব্যবসায়ীরা এখনও ইউরোপে অর্থ রাখতে ও ছুটি কাটাতে পছন্দ করেন। এই কনসেপ্টকে শতভাগ সঠিক বলা যাবে না।

কারণ, রাশিয়ারও নিজস্ব ঐতিহ্য আছে। তবে এটা সত্য গর্বাচেভের মতো অমন নয় একটা খোলা হাওয়া রাশিয়াকে বজায় রাখতে হবে।

এই কালচারের দিক বাদ দিয়েও এখন এটা সত্য যে জাপান, রুশ যুদ্ধের মতো বা আফগানে আগ্রাসনের মতো এই ইউক্রেন আগ্রাসন করে অনেক বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির ভেতর পড়বে রাশিয়া। এবং জাপান-রুশ যুদ্ধের সময়, আফগান আগ্রাসনের সময় তাদের অর্থনৈতিক অবরোধ পোহাতে হয়নি। এবার তারা অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে পড়েছে। তাই এবার অর্থনৈতিক ক্ষতি আসবে অনেক দ্রুতগতিতে। যেমন ইতোমধ্যে তেল কোম্পানির খড়গ এসে গেছে। খড়গ এসে গেছে যেসব রুশ ব্যবসায়ী ইউরোপে তাদের বড় অর্থ রাখেন এবং ইউরোপ ও আমেরিকা তাদের মূল বাজার। কারণ, এখনও পৃথিবীর মার্কেট আমেরিকা ও ইউরোপ। বাদবাকিরা প্রোডাকশন হাউজ। তাই রুশ তেল ব্যবসার স্বার্থ থেকে শুরু করে সরকারের সুবিধা পেয়ে যে ব্যবসায়ী মহল সেখানে গড়ে উঠেছে এরা এখন কেউই তাদের স্বার্থ নষ্ট করতে যাবে না। আর সে কাজটি করানোর জন্যে তাদের মোটামুটি ক্ষেত্র প্রস্তুত।

ঘটনা প্রবাহ দেখে এখন মনে হচ্ছে, ইতোমধ্যে পুতিনকে সরিয়ে দিয়ে এই তেলের ও অন্যান্য ব্যবসায়ের স্বার্থ যে গোষ্ঠীগুলো পেয়ে থাকে তারা তাদের বিকল্পও অনেকটা দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। যাদের একজন হলেন রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডিমিট্রি মিডিয়াদেব। ডিমিট্রির রয়েছে পুতিনের থেকে অনেক বেশি জনসমর্থন। এবং তার ভাবমূর্তি হচ্ছে, তিনি মোটেই কট্টরপন্থী কোনও নেতা নন। তিনি দেশের মানুষের জন্যও যেমন কঠোর কোনও পথ চালু করবেন না, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা-ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া বনাম চীনের এই দ্বিমেরুর বিশ্বে তিনি নিজেকে ব্যালান্স পজিশনে রাখতে পারবেন। এখন তিনি কীভাবে পুতিনকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসবেন সেটা নির্ভর করছে অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ওই গোষ্ঠী, বিশেষ করে তেলের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলোর ওপর। তারা কী ঘটাতে চান রাশিয়ায়। সেটা সামরিক পথেও হতে পারে, গণঅভ্যুত্থানেও হতে পারে।

আবার এর পাশাপাশি পুতিনের বিকল্প হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে যিনি এগিয়ে আসছেন তিনি রাশিয়ার বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্জে সোইগো। তিনি যদি মনে করেন, তাহলে দরজাটা খোলার জন্যে তিনি নিজেই যথেষ্ট। তিনি নিজেই ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ফেলতে পারেন। পুতিন সিআইএ-র হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে তাঁর নিরাপত্তার অনেক স্তর তৈরি করেছেন। কিন্তু সোইগোর হাতেই সে স্তরগুলো। তাই এখানে তিনি অসহায়। আর পুতিন এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ যেদিকে প্রবাহিত করে দিয়েছেন, তাতে তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আর নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হওয়ার পথেই সবকিছু এগিয়ে চলছে।

লেখক: রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক