‘গুপ্ত’ রাজনীতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে “গুপ্ত” শব্দটি কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র এবং যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহৃত রূপক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগে এবং পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজ নিজ স্বার্থ হাসিল করতে এই শব্দটিকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ব্যবহার করছে। নাগরিকরা পর্যবেক্ষণ করলে দেখতে পাবেন যে, তিনটি ভিন্ন ক্ষেত্র থেকে এই জনপ্রিয়তার ধারাগুলো তৈরি হয়েছে, যা এখন একটি বিন্দুতে এসে মিশেছে।

প্রাচীন ভারতের গুপ্ত সাম্রাজ্য (স্বর্ণযুগ) তার দক্ষ গোয়েন্দা ব্যবস্থা বা গুপ্তচর নেটওয়ার্কের জন্য পরিচিত ছিল। বর্তমানের নেটিজেনরা ব্যঙ্গ করে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সেই প্রাচীন গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসনরীতির সঙ্গে তুলনা করছেন। সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো “গুপ্ত রাজনীতির” পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছে এবং যখন যাকে যেভাবে পারছে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। এর মাঝে আমরা যারা শিল্প ও শিল্পীর স্বাধীনতার পক্ষে, আমাদের কাছে “গুপ্ত” শব্দটি কেবল রাজনীতিকদের নয়, বরং শিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য একটি সৃজনশীল প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিল্পীর স্বাধীনতার পক্ষে তারা এই শব্দটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গান, মিম এবং কন্টেন্ট তৈরি করছেন। নব্বই দশকের সেই বিখ্যাত গান— “গুপ্ত, গুপ্ত, গুপ্ত... দুনিয়া হাসিনো কা মেলা”কে নতুন করে রি-মিক্স বা প্যারোডি করে শিল্পীরা বর্তমানের গোপন বা অস্পষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তুলে ধরতে চাইছেন। যে বিন্দুতেই মিশুক না কেন, “গুপ্ত” শব্দটি এখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিতার দাবি জানানোর একটি ভাষায় পরিণত হয়েছে।

সুতরাং বলা যায়, শব্দটি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে প্রাচীন ভারতের গুপ্ত সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে নব্বই দশকের সিনেমার নস্টালজিয়া এবং বর্তমানের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা— সবকিছুরই ভূমিকা রয়েছে।

১৯৯৭ সালের “গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ” (Gupt: The Hidden Truth) বলিউড ইতিহাসের অন্যতম সেরা আইকনিক সাসপেন্স থ্রিলার। রাজীব রাই পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর একটি 'কাল্ট মুভি' হিসেবে জায়গা করে নেয়। এই সিনেমার মূল শক্তি ছিল এর টানটান উত্তেজনা। কাহিনি আবর্তিত হয় সাহিল সিনহাকে (ববি দেওল) ঘিরে, যাকে সৎ বাবা হত্যার মিথ্যা অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়। সাহিল জেল থেকে পালিয়ে আসল খুনিকে খুঁজতে বের হয়। সিনেমার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শক বুঝতে পারে না আসল খুনি কে। বলিউডের ইতিহাসে এর ক্লাইম্যাক্সকে অন্যতম সেরা “টুইস্ট” ধরা হয়। খুনি হিসেবে কাজলের (ইশা দিওয়ান) নাম সামনে এলে দর্শকরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। নেতিবাচক চরিত্রে কাজলের দুর্দান্ত অভিনয় তাকে সেই বছরের ফিল্মফেয়ার সেরা ভিলেনের পুরস্কার এনে দেয়। বিজু শাহ-এর সংগীত ছিল এই মুভির বড় প্লাস পয়েন্ট। এছাড়া আধুনিক মেকিং এবং স্টাইলিশ ক্যামেরা ওয়ার্ক সিনেমাটিকে সমসাময়িক অন্যান্য মুভি থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

রাজনৈতিক দলগুলো মূলত প্রতিপক্ষকে “আন্ডারকভার” বা “সুবিধাবাদী” হিসেবে চিহ্নিত করতে “গুপ্ত” শব্দটি ব্যবহার করছে। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তারেক রহমান এই শব্দটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তিনি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন যারা হঠকারিতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করে, তাদের “গুপ্ত” বলে অভিহিত করা হয়। গত ১৬ বছর যারা রাজপথে ছিল না বা বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ছিল অথচ এখন নতুন পরিচয়ে সক্রিয় হতে চাচ্ছে, তাদের “সুবিধাবাদী” হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি তাদের রাজনৈতিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছেন।

অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে (যেমন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ) ছাত্রদল ব্যাপক হারে দেয়ালে “গুপ্ত” লিখে গ্রাফিতি আঁকছে এবং স্লোগান দিচ্ছে— “গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক”, “গুপ্ত যাদের অবস্থান, তাদের বাড়ি পাকিস্তান”। ছাত্রদল মূলত এই শব্দটি ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, যারা প্রকাশ্যে রাজনীতি না করে গোপনে প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তারা সুস্থ ধারার রাজনীতির জন্য হুমকি। এটি মূলত ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের একটি কৌশল।

বিপরীত দিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির মনে করে, “গুপ্ত” শব্দটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা বিএনপি তাদের রাজনৈতিক মাঠ পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করছে। তারা একে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থি হিসেবে দেখছে। জামায়াতের সমর্থক ও বুদ্ধিজীবীদের মতে, বিএনপি বর্তমানে জামায়াত-শিবিরকে যেভাবে আক্রমণ করছে, তা অনেকটা বিগত সরকারের ভাষার মতো। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ যেমন জামায়াতকে “জঙ্গি” বা “আন্ডারকভার” বলে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল, বিএনপিও “গুপ্ত” তকমা দিয়ে একই কাজ করার চেষ্টা করছে। এটি মূলত আগামী নির্বাচনে একক আধিপত্য বিস্তারের একটি প্রচেষ্টা। শিবিরের দাবি, ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের অবস্থান শক্ত করতে এবং শিবিরকে কোণঠাসা করতে এই “গুপ্ত” জুজু ব্যবহার করছে, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা।

মজার ব্যাপার হলো, আমরা যারা ক্রিটিক্যাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর শিক্ষার্থী, তারা যদি রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে “গুপ্ত” সিনেমাটিকে মেলাই, তবে একটি চমৎকার যোগসূত্র পাওয়া যায়। সিনেমায় রাষ্ট্র ও পুলিশ প্রশাসন (ওম পুরির চরিত্র) সাহিলকে অপরাধী সাব্যস্ত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে। কিন্তু সিস্টেমের ভেতরে থাকা “লুকানো সত্য” বা Hidden Truth (যা আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার) উন্মোচন করতে সাহিলকে প্রচলিত আইনি কাঠামোর বাইরে যেতে হয়। এটি এক অর্থে রাষ্ট্রের “নিরাপত্তা কাঠামো” এবং “ব্যক্তিগত সত্যের” সংঘাতের উদাহরণ।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ করছে। যেহেতু কোনও সংসদ ছিল না, তাই সরকার 'অধ্যাদেশ'-এর মাধ্যমে নতুন আইন করছে। সমালোচক ও বিশ্লেষকদের একাংশ এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যখন কোনও আইন জনগণের সাথে আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ প্রকাশ করা হয়, তখন সেটিকে ব্যঙ্গ করে অনেকেই “গুপ্ত আইন” বা “গোপন আইন” বলছেন। আবার গত ১৮ বছরের “গুপ্ত”, “আয়নাঘর” এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অতি-সক্রিয়তার কারণে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, তা এখন “গোপন” বা “গুপ্ত” শব্দটির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তাকে ব্যঙ্গ করার খোরাক জোগাচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এর অনেক ধারা অস্পষ্ট বা “গুপ্ত” রাখা হয়েছে, যা মানবাধিকার রক্ষার বদলে সরকারের ক্ষমতা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, “গুপ্ত”এখন আর কেবল সিনেমার নাম নেই; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বনাম গোপনীয়তার লড়াইয়ের একটি প্রতীকী শব্দ।

ক্রিটিক্যাল সিকিউরিটি স্টাডিজের পাঠক ও শিক্ষার্থী হিসেবে বলতে পারি, আন্ডারকভার রাজনীতিকে কেবল কৌশলগত প্রয়োজন হিসেবে দেখা ভুল। এটি কোনোভাবেই অনিবার্য ভালো কিংবা খারাপ নির্দেশ করে না, বরং এটি রাষ্ট্রের এক ধরণের ক্ষমতা কাঠামোর পুনর্গঠন, যা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। গুপ্ত ও গোপন রাজনীতির সমালোচনা আমাদের মনোযোগকে ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দেয়। এটি কেবল এই প্রশ্ন করে না যে, আমরা কীভাবে শত্রুর কাছ থেকে গোপনীয়তা রক্ষা করব? বরং প্রশ্ন তোলে যে, গোপনীয়তা রক্ষার এই প্রবণতা আমাদের সমাজ, আইন এবং পরিচয়ের ওপর কী প্রভাব ফেলছে? এক্ষেত্রে পাঁচটি গভীর সমস্যার কথা বলা যায়–

প্রথমত, প্রতিপক্ষকে “গুপ্ত” হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। কোনও সংস্কার বা সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হলে তার দায় নিজের ওপর না নিয়ে “গুপ্ত শক্তির ষড়যন্ত্র” বলে চালিয়ে দেওয়া সহজ হয়। এতে মানুষের মনে এই ধারণা জন্মে যে, রাজনীতিতে দৃশ্যমান যা ঘটছে তা আসল নয়; বরং আসল খেলা পর্দার আড়ালে বা গোপন কক্ষে হচ্ছে। এটি স্বচ্ছতা ও যত্নের চেয়ে সহিংসতা এবং শ্রেণিবিন্যাসকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

দ্বিতীয়ত, এটি দায়বদ্ধতাহীনতার এক ব্ল্যাক হোল বা আইনি শূন্যতা তৈরি করে। রাষ্ট্র যখন "জাতীয় স্বার্থ"-এর দোহাই দিয়ে সবকিছুকে “গুপ্ত” তকমা দেয়, তখন সেখানে বিচার বিভাগীয় বা সংসদীয় নজরদারি থাকে না। এটি কার্যকরভাবে একটি “স্থায়ী বা স্বাভাবিক জরুরি অবস্থা” আহবান করে কিংবা পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে সাধারণ আইন স্থগিত থাকে।

তৃতীয়ত, সমাজকে নিরাপত্তাকরণ করে; কোনও দলকে “গুপ্ত” ট্যাগ দিয়ে তাকে রাজনৈতিক সমস্যার বদলে “নিরাপত্তা হুমকি” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এটি নাগরিকদের রাষ্ট্রের অংশীদার মনে না করে “নজরদারির বস্তু” হিসেবে গণ্য করে। এর ফলে নাগরিকদের “অবহিত সম্মতি”র অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এটি একটি বায়োপলিটিক্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্র সবকিছু দেখবে কিন্তু নাগরিক কিছু জানতে পারবে না। রাষ্ট্র আগেভাগেই ঠিক করে ফেলে কারা হুমকি। এটি কোনো প্রকাশ্য বিচার নয়, বরং গোপন ডেটা অ্যানালাইসিস ও মেটাডেটা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া।

চতুর্থত, গোপন রাজনীতি নিরাপত্তা বাড়ায় না, বরং অনিরাপত্তা এবং অবিশ্বাস তৈরি করে। একে অপরকে “গুপ্ত” বলে ডাকার ফলে সমাজে পারস্পরিক সন্দেহ ও সিস্টেমিক প্যারানোয়া বা উন্মাদনা তৈরি হয়, যা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। রাজনীতিবিদরা প্রায়ই বলেন, “শত্রু মোকাবিলায় গোপন কাজ করতেই হয়”, কিন্তু ইতিহাস বলে— এই গোপন কাজ করতে গিয়ে রাষ্ট্র নিজেই জনগণের জন্য “অদৃশ্য শত্রু” হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতা হলিউড মুভি “হার্ট লকার”-এর সেই ইরাকি ভিড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে সবাই সম্ভাব্য শত্রু। সার্জেন্ট জেমস যেমন বিপদের মধ্যে না থাকলে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পান না, রাষ্ট্রও তেমনি “গুপ্ত” অপারেশন ছাড়া নিজেকে নিরাপদ মনে করে না।

পঞ্চমত, যখন সবাই সবাইকে সন্দেহ করে, তখন সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এতে স্বচ্ছতা গুরুত্ব হারায় এবং রাজনীতিবিদরা মনে করেন পর্দার আড়ালের রাজনীতিই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে জবাবদিহিতা লোপ পায়। কাউকে “গুপ্ত” বলে কোণঠাসা করা হলে সেই গোষ্ঠীটি উগ্রপন্থা বেছে নিতে বাধ্য হতে পারে। এই ট্যাগিংয়ের ফলে সমাজে “আমরা বনাম তারা” বিভাজন বাড়ে এবং রাজপথে বড় ধরনের সহিংসতার সূত্রপাত ঘটতে পারে। পরিশেষে, এটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি “অবহিত সম্মতি”কে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়।

পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে “গুপ্ত” শব্দটি কেবল একটি গতানুগতিক বিশেষন নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় অস্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের এক স্মরণ চিহ্ন। ইতিহাস, পপ-কালচার এবং বর্তমান প্রশাসনিক বাস্তবতার মিশেলে এই শব্দটি আজ এক শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা অধ্যায়নের  পর্যালোচনামূলক পাঠক হিসেবে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, রাজনীতি যখন জনসমক্ষে আলোচনার টেবিলে না থেকে '“গুপ্ত” বা আন্ডারকভার কুঠুরিতে বন্দি হয়, তখন তা গণতন্ত্রের প্রাণভ্রমরাকে শ্বাসরোধ করে। একে অপরকে “গুপ্ত”তকমা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এই চর্চা দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বিভাজন ও সিস্টেমিক প্যারানোয়া বাড়িয়ে তুলছে, যা নাগরিকের “অবহিত সম্মতি” এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুতরাং, একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার স্বার্থে “গোপনীয়তার রাজনীতি” নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার চর্চাই হোক আমাদের লক্ষ্য। তবেই “গুপ্ত সাম্রাজ্য” বা “গোপন আয়নাঘর”-এর অন্ধকার ইতিহাস পেছনে ফেলে রাষ্ট্র সত্যিকারের নাগরিক-বান্ধব হিসেবে গড়ে উঠবে। কেননা “উজ্জ্বল মুখের ভিড়ে আজ ‘গুপ্ত’ অন্ধকারই সার, তৃষ্ণার্ত জনতা খোঁজে এক অকৃত্রিম গণতন্ত্রের অধিকার।”