নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হওয়া মামলাগুলোর ‘বেশি শতাংশই মিথ্যা’ হয়ে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘‘আইনের অপব্যবহার করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ যে কারও বিরুদ্ধে মামলা করে দেন। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক অশান্তির কারণে প্রতিপক্ষকে হেয় করার জন্য এ ধরনের মামলা করে হয়রানি করা হয়।’’ সত্যিই কি তাই হচ্ছে? এই আইনে হওয়া মামলাগুলোর ‘বেশি শতাংশই’ কি মিথ্যা? তাহলে দেশে ব্যাপক হারে ঘটে যাওয়া শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোও কি অসত্য?
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হওয়া মামলাগুলোর ‘বেশি শতাংশই মিথ্যা’, ওনার ঠিক এই হিসাবের প্রতিবাদ জানাই। নারী নির্যাতনের বিশেষ করে শিশু ও নারী ধর্ষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী যদি এ কথা বলেন, তাহলে তো অপরাধীরা বাদ্য বাজাবে।
এমনিতেই ভিকটিম নারী ও তাদের পরিবার মামলা করতে চান না বিভিন্ন কারণে। উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক নারী নিজেদের ওপর হওয়া নির্যাতন ও অসম্মানের কথা প্রকাশ করেন না, পরিবার ও সামাজিক লজ্জার ভয়ে। নিম্নবিত্তের নারীদের বেশিরভাগই জানেন না কোথায়, কীভাবে অভিযোগ জানানো যায়। তাছাড়া তাদের আর্থিক অবস্থাও মামলা চালিয়ে নেওয়ার পক্ষে নয়।
আর পরিবারের ভেতরে বা পরিচিতজন দ্বারা যখন নারী ও শিশু ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়, তখন পরিবার নীরব থাকার চেষ্টা করে। এমনকি এই নিপীড়ন প্রসঙ্গে শিশু ও নারীকে কথাও বলতে দেওয়া হয় না, মামলা করাতো আরও দূরের ব্যাপার। তাই রাষ্ট্র্রপক্ষের উচিত এ ধরনের মামলা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া ও অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করা। এছাড়া মামলা দায়ের থেকে বিচার পাওয়া পর্যন্ত এতটা সময় পার করতে হয়, যা ভিকটিম ও তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। মামলা মাঝপথে থেমে যায়। অভিযুক্ত আসামির দাপটে অনেক ভিকটিম ও পরিবারকে এলাকা ছেড়েও চলে যেতে হয়।
পরিসংখ্যান বলে, চলতি বছরের মার্চ মাসেই দেশে ৪৪২ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১২৫ জন, আর গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৮ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২ জনকে। এছাড়া ৭০ জনের বেশি নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। আর ২০২৫ সালে ২৮০৮ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে। মোট ৭৮৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৪৩ জন কন্যা ও ২৪৩ জন নারী। এদের মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭৯ জন। (সূত্র: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ)
সারা দেশে যেভাবে এবং যত পরিমাণে নারী নির্যাতন চলছে, এসব ঘটনার কোনোটিতে মামলা হয়েছে, কোনোটিতে হয়নি। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুসারে, গত এক বছরে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
এ সময়ে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। গত বছর নারী নির্যাতনের যত মামলা হয়েছে, এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ধর্ষণ অভিযোগের, এই সংখ্যা ৭ হাজার ৬৮টি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৫১৭১ জন ও শিশু ১৮৯৭টি। ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে ২১ হাজার ৯৩৯টি। নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা, সহিংসতার হুমকি, নিপীড়ন, হেনস্তা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও নানা ধরনের যৌন হয়রানি। অন্য অভিযোগ বাদ দিলেও শিশু ও নারী ধর্ষণের অভিযোগ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার খবরগুলো কি মিথ্যা?
উচ্চ আদালতের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ হাজার ৩৬৫টি। ফিরে আসি আগের প্রশ্নে, তাহলে নারী নির্যাতনের অসংখ্য মামলার মধ্যে ‘‘অধিকাংশই কি মিথ্যা মামলা”?
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলেই মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। যখন কোনও ঘটনা ঘটে, তখন সেটা নিয়ে হইচই হয়। কিন্তু যিনি ঘটনার শিকার হয়েছেন, তাঁর পাশে থাকা বা মামলার বিচার ও তদন্ত ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে কিনা, তা অনুসরণ করা হয় না। আবার অনেক ঘটনায় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী নারীকে দোষারোপ করা হয়। মামলার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর আর্থিক, আইনি ও স্বাস্থ্যগত সহায়তা দরকার। শুধু বিচার প্রক্রিয়া তদারকি না করে তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকেও নজর দেওয়া দরকার। সাক্ষী সুরক্ষাটাও জরুরি। (সূত্র: প্রথম আলো)
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১১ হাজারের বেশি মামলা তদন্ত করে ধর্ষণের ৪৪ শতাংশ অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আট বছরে ধর্ষণের অভিযোগে থানা ও আদালতে এসব মামলা করা হয়েছিল। পিবিআই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রমাণিত না হওয়া মামলার অন্তত ৩০ শতাংশ সত্য। সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে, বাদীর অনীহা, আর তদন্ত কর্মকর্তার অদক্ষতায় তদন্তে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, বিচার চলাকালীন সময়ে নানা সংস্থার কার্যক্রম, বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষীর অভাব, তদন্তে ত্রুটি, ঠিকমতো আলামত সংগ্রহ না হওয়াসহ অন্যান্য দুর্বলতার কারণে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
‘‘আমাদের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। নারীরা সহজে মামলাটা করতেই চায় না। সেই মামলা বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে যদি প্রমাণিত না হয়, তার মানে অর্থ এই না যে এটি মিথ্যা মামলা। এসব ত্রুটি-বিচ্যুতির দায়তো নারীর না। নির্যাতিত নারীর জন্য ধীরে ধীরে বিচার পাওয়ার জায়গাটুকু সংকুচিত হয়ে যায়। মামলা ফাইল হওয়ার পর বিচার পাওয়া পর্যন্ত যেতে একটা দীর্ঘসূত্রতা আমাদের দেশে আছেই। এসব পারিপার্শ্বিক কারণে দেখি যে, মামলা প্রায়ই প্রমাণিত হয় না।” (নীনা গোস্বামী, সাবেক পরিচালক, আইন ও সালিশ কেন্দ্র)
বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের মামলার অপব্যবহারের অভিযোগ যেমন আছে, তেমনই নির্যাতনের বিচার নারীরা পাচ্ছেন না, সেই অভিযোগও আছে অনেক বেশি হারে। দেখা যাক, বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা কী হারে হয়, কোন ক্ষেত্রে হয়?
‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০’ কার্যকর হওয়ার পর পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছিলেন, অসৎ মানুষ বিভিন্নভাবে এই আইনের অপব্যবহার করছে। জমিজমা সংক্রান্ত মামলাতেও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এমনকি নিজের মেয়ে ধর্ষণের শিকার—এই কথা বলতেও দ্বিধা করছে না।
স্ত্রীর পরিবারের এক আত্মীয়ের সঙ্গে জমিজমা বিবাদ হলো মাসুদ হোসেনের (ছদ্মনাম)। পরবর্তীকালে সেটি হয়ে ওঠে পুরো পরিবারের সঙ্গে বিবাদ। এমনকি স্ত্রীর সঙ্গেও শুরু হয় সমস্যা। একপর্যায়ে স্ত্রীর পরিবার তার বিরুদ্ধে যৌতুকের ও নারী নির্যাতনের মামলা করেছিল। আদালতে মামলা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হলে মাসুদ ছাড়া পান। স্ত্রী নির্যাতনের মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন কাশেম আলি, পরে উল্টো উচ্চ আদালতে মামলা করে জয়ী হয়েছেন তিনি। (সূত্র: বিবিসি বাংলা)।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় জামিন পাওয়া কঠিন বলে অনেকে এর অপব্যবহার করছেন। আগে আইনটি জামিন অযোগ্য ছিল। অবশ্য এখন কিছু ক্ষেত্রে জামিন পাওয়া যায়। কিন্তু মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে আসামিকে জেলে থাকতে হয়। এ জন্য অনেকে পালিয়ে থাকেন। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলায় হয়রানি করার একটা সুযোগ রয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, নারী নির্যাতনের মামলার বেশিরভাগেরই কোনও প্রমাণ মেলে না। বাংলাদেশে জমিজমা সংক্রান্ত মামলাই সবচাইতে বেশি হয়ে থাকে। জমিজমার মামলা সময়সাপেক্ষ হয় বলে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার হাতিয়ার হিসেবেও অনেক সময় নারী নির্যাতনের মামলা জুড়ে দেওয়া হয়। এ রকম প্রচুর মামলা আছে, যাতে পরিবারের একজন দোষী হলেও পুরো পরিবারকে জড়ানো হয়ে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক খন্দকার ফারজানা রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, এমন মামলা মূলত হচ্ছে নানাজনের বুদ্ধিতে। মন্ত্রণাদাতা প্রথমত হচ্ছে পরিবারের লোক ও আত্মীয়স্বজন। কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উকিল। মানুষ যখন মামলা করেন, তখন শুরুতেই একজন উকিলের কাছেই যান। অনেক সময়ই উকিলের কথাতেও এমন মামলা হয়।
বিচার সংক্রান্ত বিভিন্ন সভাতেও নারী নির্যাতন সম্পর্কিত অসংখ্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে এগুলোর সত্যতা, বিশেষ করে যৌতুক সংক্রান্ত মিথ্যা মামলা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নারী নির্যাতন মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় যৌতুকের মামলা। কেউ বলেন, ৮০ শতাংশ মামলাই যৌতুকের। কেউ বলেন, ৫০ শতাংশ। এই কারণে সরকার যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধেও শাস্তির ব্যবস্থা করেছিল।
সরকার আইনে কিছু পরিবর্তন আনাটা কেন প্রয়োজন বলে মনে করছে, গণমাধ্যমের এই প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘‘এই আইনগুলো করার পরে দেখা যাচ্ছে যে, এর কিছু অপব্যবহার করা হয়। যেমন- ধরুন স্বামীর সাথে বিরোধ, তখন শ্বশুরবাড়ির সবাইকে জড়িয়ে মামলা করা হচ্ছে। এমনও দেখা গেছে ,তারা কিছুই জানে না। এসব বিবেচনায় রেখে আমরা মনে করছি যে, এমন কিছু দরকার। তাই বিশেষ আইনে যৌতুকের মিথ্যা মামলার বিষয়টি সংযুক্ত করতে চাচ্ছি।’’ এমন মামলার কোনও সঠিক হিসেব রয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন—‘‘এটার সংখ্যা যে মারাত্মক তা না, কিন্তু এটার একটা সংখ্যা আছে। আমরা চাচ্ছি সব পক্ষই যেন ন্যায্য বিচার পায়।’’
পেছনে ফিরে তাকালে দেখবো যে, বিচারাধীন মামলা দ্রুত সুরাহার জন্য প্রায় ৭ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট যখন কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে নির্দিষ্টভাবে নারী নির্যাতন মামলার কথা ছিল না। সেই সময় একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়— দেশের প্রায় ১০ ধরনের ট্রাইব্যুনালে করা সব ধরনের মামলার মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাই উচ্চ আদালতের নির্দেশে সব থেকে বেশি স্থগিত থাকছে। সারা দেশের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা উচ্চ আদালতে যে হারে স্থগিত হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি হারে নারীর মামলা স্থগিত হয়। দেশের সব ধরনের ফৌজদারি অপরাধের বিচারে দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, নারীদের মামলাগুলোর বিচার হতেই বেশি সময় লাগছে।
নারীকে সুরক্ষা দিতে বিশেষ আইন এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো বিধান আছে। শুধু ধর্ষণ মামলার জন্যই দ্রুত বিচার খুবই জরুরি। কারণ বিচার যত দেরি হবে, সাক্ষ্যগ্রহণ ততটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। সাক্ষী ঘটনার কথা ভুলে যেতে পারেন, সাক্ষী বা ভিকটিম বা অভিযুক্ত মারা যেতে পারেন, যেকোনোভাবেই প্রমাণ নষ্ট হতে পারে। এমনিতেই আমরা দেখছি যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা বহু মামলা বিচার পর্যন্ত গড়ায় না। পুলিশি তদন্তে ঘটনার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না, অনেক ঘটনা মিটমাট হয়ে যায়, সালিশ হয়, অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে হয়, টাকার অভাবে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ভয়ভীতি প্রদর্শনে বা অন্য কারণে অনেকে মামলা তুলে নেন।
২০১৮ সালের ৮ মার্চ থেকে ২৩ মে সময়কালে প্রকাশিত প্রথম আলোর ছয় পর্বের একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সব অপরাধের মামলায় দণ্ডলাভের গড় হার ১৫ শতাংশের বেশি। অথচ ঢাকাতেই নারী নির্যাতনের গুরুতর ছয়টি অপরাধের মামলায় সাজার হার ৩ শতাংশের কম। নারীর মামলাতেই যে উচ্চ আদালতের স্থগিতকরণের হারটা বেশি, তার সঙ্গে এই পরিসংখ্যান কিন্তু সঙ্গতিপূর্ণ।
সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল আমীন একবার বলেছিলেন, এখানে মিথ্যা মামলা বেশি। সেটা অনুমেয়রূপে বিচার চলবে না। ২০১৬ সালে সতর্ক করে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. ইমান আলী বলেছিলেন, এই মিথ্যার বহুরূপ, যাতে সত্যও মিশ্রিত। অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মাসদার হোসেনের পরামর্শ ছিল, ‘মামলা যখন যেমনই হোক, আমলে নেওয়ার আগেই নির্বাহী হাকিম দিয়ে মামলাগুলো ছেঁকে নিন।’ (সূত্র: প্রথম আলো)
মিথ্যা মামলার ধারণার মধ্যে আটকে না থেকে সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগের সহজ ব্যবস্থা করা, আর আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। নারী নির্যাতন মামলাকে অস্বীকার না করে এর লুপহোলগুলো খুঁজে, সর্বোচ্চ দ্রুততায় নিষ্পত্তি হলে সবার লাভ হবে।
শাহানা হুদা রঞ্জনা: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক