মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে কি বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত? 

মক্কা থেকে যখন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির খবর এলো, তখন বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস দেখা গেল। দেশের একটি বড় অংশের মানুষ মনে করছে, মুসলিম বিশ্বের এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র যখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি করেছে, তখন বাংলাদেশেরও সেখানে থাকা উচিত। এর পেছনে শুধু কৌশলগত হিসাব নেই। আছে ইতিহাস, আবেগ, ধর্মীয় অনুভূতি, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা ক্ষোভ ও উদ্বেগও আছে।

অনেকের কাছে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটটি শুধু একটি সামরিক জোট নয়। বরং মুসলিম বিশ্বের শক্তি, আত্মমর্যাদা এবং পশ্চিমা-নির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থার বাইরে একটি নতুন ভারসাম্যের সূচনা। ফলে বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিক—এমন দাবি জনপ্রিয় হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কি কেবল জনআবেগ দিয়ে নেওয়া যায়? বিশেষ করে এমন একটি সামরিক জোটে, যেখানে এক দেশের নিরাপত্তা সংকট অন্য দেশের নিরাপত্তা সংকট হয়ে উঠতে পারে? এখানেই এসে দাঁড়ায় আজকের মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন—মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত কিনা?

বিষয়টি বুঝতে হলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একটু পাশাপাশি রাখতে হবে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল কাতারে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র কাতার শুধু মধ্যপ্রাচ্যের একটি ধনী রাষ্ট্র নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী। কাতারে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও রয়েছে। অথচ সেই কাতারেই ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় নিরাপত্তা বার্তা বহন করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেই কোনও রাষ্ট্র সব ধরনের আঞ্চলিক সামরিক ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এর মাত্র আট দিন পর, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সৌদি আরব ও পাকিস্তান স্বাক্ষর করলো স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (Strategic Mutual Defense Agreement বা SMDA)। যা হলো দুটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি। অর্থাৎ নিরাপত্তার প্রশ্নে রিয়াদ ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতার পাশাপাশি ইসলামাবাদের সঙ্গে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিলো। এরপর ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এক দেশের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসনকে তিন দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করার নীতি। এটিকে ন্যাটোর হুবহু বিকল্প বলা হয়তো তাড়াহুড়ো হবে। তবে এর মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে।

তিন দেশের এই সমীকরণও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সৌদি আরবের সামনে রয়েছে ইরান, ইয়েমেন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট। তুরস্কের সামনে রয়েছে কুর্দি প্রশ্ন, সিরিয়া, ইসরায়েল ও পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে মতপার্থক্যের নানা অধ্যায়। আর পাকিস্তানের সামনে রয়েছে ভারত, আফগানিস্তান, বেলুচিস্তানসহ একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ তিন দেশই এমন রাষ্ট্র—যাদের জাতীয় নিরাপত্তা সরাসরি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

সৌদি আরবের হিসাবটি সবচেয়ে সহজে বোঝা যায়। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোর বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো রিয়াদকে হয়তো নতুন করে ভাবিয়েছে—নিরাপত্তার সব ডিম একটি ঝুড়িতে রাখা কতটা নিরাপদ? সৌদি আরব তাই একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াবে। এটাই বাস্তববাদী কৌশল তাদের। পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাও সৌদি আরবের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

তুরস্কের জন্য বিষয়টি আবার আলাদা। ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক সবসময় মসৃণ নয়। এরদোয়ান সরকারের নিজস্ব আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে তুরস্কের অবস্থানও পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে মেলে না। ফলে ন্যাটোর বাইরে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তুরস্কের কৌশলগত বিকল্প বাড়ায়। আর পাকিস্তানের জন্য হিসাব আরও স্পষ্ট। ভারতের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য, মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা, সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা—সবকিছু মিলিয়ে ইসলামাবাদ এই জোট থেকে রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় সুবিধা পেতে পারে।

এখন আসি বাংলাদেশের কথায়। সত্যি কথা হলো—দেশের মানুষের একটি বড় অংশ এই জোটে যোগদানের পক্ষে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর পক্ষে আবেগঘন বক্তব্যও দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক সেন্টিমেন্ট যেমন আছে, তেমনই আছে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। অনেকেই মনে করেন, ভারত যদি বাংলাদেশের জন্য চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোট বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাড়াবে। কেউ কেউ আবার মনে করেন, বাংলাদেশকে আর একা থাকা উচিত নয়।

মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কৌশলগতভাবে দাঁড়ানো দরকার। এই আবেগকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু রাষ্ট্রনীতি আবেগ দিয়ে শুরু হতে পারে, শেষ হতে পারে না। রাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্বার্থের হিসাবেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যদি আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয় “বাংলাদেশের কি মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া উচিত?” উত্তর একদম সোজা- জাতীয় স্বার্থ ও লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করে করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

কারণ প্রথম ঝুঁকিটি এখানেই—যে দেশগুলোকে আমরা বন্ধু হিসেবে দেখছি, তাদের প্রত্যেকেই নিজস্ব সংঘাতের মধ্যে আছে। সৌদি আরবের ইরান ও ইয়েমেনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। তুরস্কের কুর্দি সমস্যা রয়েছে। পাকিস্তানের রয়েছে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একটি সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার অর্থ হলো—আজ যে সংঘাত আমাদের নয় ভবিষ্যতে সেটি আমাদেরও হয়ে যেতে পারে। কোনও এক সদস্য আক্রান্ত হলে যদি পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়, তাহলে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য সেটি ভয়াবহ কৌশলগত বোঝা হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ভারসাম্য। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বড় কোনও সামরিক জোটের সদস্য হয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে নিজেকে জড়ায়নি। কুয়েত যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে। সেটিকে কোনও নির্দিষ্ট সামরিক জোটে যোগদানের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল কূটনৈতিক পরিচয় হলো—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। সেই অবস্থান থেকে হঠাৎ একটি নির্দিষ্ট সামরিক জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসর সংকুচিত হতে পারে।

তৃতীয়ত, ভারতের আধিপত্যবাদ বা অন্য কোনও রাষ্ট্রের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশের সামরিক জোটে যোগ দেওয়া কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। ভারতকে ভয় পাওয়ার প্রশ্নই আসে না, বরং বাস্তবতা বুঝতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিরোধ রয়েছে, থাকবে। পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য, রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা বিষয়ে কঠিন দরকষাকষিও প্রয়োজন। কিন্তু ভারতের সঙ্গে সমস্যার সমাধান অন্য একটি সামরিক জোটে ঢুকে নয়। বরং বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে।

আধুনিক যুগে কোনও রাষ্ট্র শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে না। অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা, কূটনীতি, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব—সবই জাতীয় শক্তির অংশ। ফলে বাংলাদেশের যদি ভারতের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য তৈরি করতে হয়, তাহলে প্রথমে বাংলাদেশকেই শক্তিশালী হতে হবে।

চতুর্থত, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান করলে একটি বড় Security Dilemma বা নিরাপত্তা দ্বিধা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশ নিজের নিরাপত্তা বাড়াতে গিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে নিজেকে আরও বেশি হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। ভারত যদি এই জোটে বাংলাদেশের যোগদানকে নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তখন যে নিরাপত্তা অর্জনের জন্য জোটে যাওয়া—সেই জোটই উল্টো নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।

পঞ্চমত, বাংলাদেশকে ভুলে গেলে চলবে না যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হলেও তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তার গ্যারান্টর নয়। তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সবসময় এক হবে—এমন নিশ্চয়তা কোথায়? আজকের মিত্র আগামী দিনের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে অন্য অগ্রাধিকার নিতে পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই। স্থায়ী হলো জাতীয় স্বার্থ। তাই আবেগ দিয়ে জোটে ঢোকার আগে বাংলাদেশের উচিত সেই স্বার্থের কঠিন হিসাব করা। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ সৌদি আরব, পাকিস্তান বা তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক কমাবে। বরং সম্পর্ক আরও বাড়াতে হবে।

সৌদি আরবের সঙ্গে বিনিয়োগ, জ্বালানি, শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে। তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানো যেতে পারে। প্রয়োজন হলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হওয়া এক জিনিস নয়। বাংলাদেশকে এই পার্থক্যটি বুঝতে হবে।

আমাদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করতে হবে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে। নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। সমুদ্রসীমা ও সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে হবে। একইসঙ্গে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সফট পাওয়ার বাড়াতে হবে। একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম ও কূটনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বলয় তৈরি করতে হবে। যাতে বাংলাদেশকে সহজে কেউ চাপের মুখে ফেলতে না পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশ থাকবে কিনা—এটি নয়। বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের অংশ। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হওয়াই স্বাভাবিক। আসল প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি এমন একটি সামরিক দায় নিজের কাঁধে নেবে, যার সংঘাতের সিদ্ধান্ত অন্য রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক হিসাবের ওপর নির্ভর করবে? উত্তর না আসাটা স্বাভাবিক।

দেশের মানুষের আবেগকে সম্মান করেই বলতে হয়, আবেগ রাষ্ট্রের শক্তি হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কৌশল হতে পারে না। মক্কা প্রতিরক্ষা জোট মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো সেই বাস্তবতার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত থাকা। তার সদস্য হয়ে যাওয়া নয়।

ভারতকে মোকাবিলার জন্য অন্যের ছায়ায় দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। বরং বাংলাদেশকে এমন শক্তিশালী হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশের দিকে চোখ তুলে তাকানোর আগে বহুবার হিসাব করে। সামরিক জোট নয়, জাতীয় সক্ষমতাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা। অন্যের যুদ্ধে অংশ নেওয়া নয়, নিজের রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।

লেখক: সাংবাদিকতার শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক

vprashantcu@gmail.com