বৈষম্য বা পণ্যের মাপে সুপেয় পানিকে অপবিত্র না করি 

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের লোনাপানিতে প্লাবিত কোনও জনপদের কাঠফাটা রোদে মাইলের পর মাইল হেঁটে এক কাঁখে খালি কলসি, আর অন্য হাতে সন্তানকে ধরে যে নারীটি একটু মিষ্টি সুপেয় পানির সন্ধানে ছুটছেন, তার এই আকুলতা কোনও বিলাসিতা নয়— এটি কেবল টিকে থাকার এক করুণ লড়াই। এই এক কলসি পানির জন্য উপকূলের নারীদের প্রতিদিন গড়ে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হয়। আরও ভয়াবহ সত্য হলো—বাধ্য হয়ে অনবরত লোনা পানি পান করা এবং বিশেষ করে মাসিকের সময় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনার চরম সংকটে পড়ে এই নারীরা জরায়ুর জটিলতা, প্রজনন নালীর সংক্রমণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত উচ্চ রক্তচাপের মতো নীরব ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

অপরদিকে, রাজধানীর কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁ কিংবা আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের ভিআইপি টেবিলে সাজিয়ে রাখা রঙিন লেবেলের প্লাস্টিক বোতলের পানি—যার গায়ে দাম লেখা ২০, ৩০, ৫০ বা ১০০ টাকা। পকেটে টাকা থাকলে তৃষ্ণা মেটে নিমেষে, আর টাকা না থাকলে কপালে জোটে রোগব্যাধি, হাহাকার কিংবা নীরব মৃত্যু। প্রশ্ন ওঠে, ‘সুপেয় পানি: মৌলিক অধিকার নাকি বাণিজ্যিক পণ্য?’

গ্লোবাল ওয়াটার ব্যাংকরাপসি ও প্রকট বৈষম্য

এই নির্মম বৈষম্য আজ কেবল বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে সীমাবদ্ধ নেই—এটি পুরো মানবজাতির সামনে এক সর্বগ্রাসী সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতিসংঘ সম্প্রতি এক শঙ্কাজনক বিশ্ব প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে যে পৃথিবী আজ  আর নিছক কোনও সাময়িক বা স্থানীয় ‘পানি সংকটে’ নেই, আমরা প্রবেশ করেছি ‘বিশ্ব পানি দেউলিয়াত্ব’-এর এক ভয়াবহ যুগে। ১৯৭০ সালের পর থেকে পৃথিবীর প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রাকৃতিক জলাভূমি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি বড় হ্রদ ও জলাধারের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। আজ বিশ্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ চরম পানি-অনিরাপত্তার মুখে দাঁড়িয়ে দিন কাটাচ্ছে। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টারগুলোর কম্পিউটার চিপ ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন কোটি কোটি লিটার সুপেয় পানি ব্যবহার করা হচ্ছে, অন্যদিকে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ এক ফোঁটা পানযোগ্য পানির অভাবে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে।

বিশ্বজুড়ে পানিকে বাণিজ্যের হাতিয়ার বানানোর এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ‘প্যাট্রিওটিক ভিশন’-এর স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ঐতিহাসিক ও তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বিশুদ্ধ সুপেয় পানির বেসরকারীকরণ ও করপোরেট দখলাদারত্বের বিরুদ্ধে তার সেই অকাট্য বক্তব্যটি প্রতিটি মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দেয়—‘‘পানি চিরকাল বিনামূল্যে মিলবে না। যখনই পরিষ্কার সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দেবে, তখনই তাকে বেসরকারীকরণ করা হবে, তার ওপর মূল্য চাপানো হবে এবং তা করপোরেট নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। আপনাকে বেঁচে থাকার জন্য পানির দাম দিতে হবে, আর যার সেই দাম দেওয়ার সামর্থ্য থাকবে না, সে টিকে থাকতে পারবে না... মুনাফা অর্জনের আগেই পানিকে মানুষের জন্য সুরক্ষিত করা উচিত।’’

বাণিজ্যিক আগ্রাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জল-অবিচার

মোহামাদ সাফার এই জ্বলন্ত বাক্যগুলো আমাদের জন্যও এক চরম বাস্তব সতর্কবার্তা। আমাদের দেশে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে দেখা হয়েছে সরকারের এক ধরনের ‘দাতব্য অনুগ্রহ’ বা ‘ত্রাণসেবা’ হিসেবে। কিন্তু এই মানসিকতার সুযোগে গড়ে উঠেছে এক প্রাতিষ্ঠানিক ‘জল-অবিচার’। দেশের মাত্র ৩৯.৩ শতাংশ মানুষ ‘নিরাপদভাবে পরিচালিত’ সুপেয় পানি পানের সুযোগ পান। পরীক্ষার জন্য সংগৃহীত গৃহস্থালির খাবার পানির ৮৪.৯ শতাংশ নমুনাতেই ক্ষতিকর ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে। এছাড়া ঢাকার পানি সরবরাহে পিএফএএস এবং ক্লোরিন উপজাতের মতো ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি আমাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। আর শহরের বস্তিগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় আরেক বৈষম্য—ওয়াসার ভর্তুকিযুক্ত পানি বিত্তবানরা কম দামে পান, অথচ অনানুষ্ঠানিক বসতির শ্রমজীবী মানুষ ‘ওয়াটার মাফিয়াদের’ কাছ থেকে চার থেকে ছয়গুণ বেশি দামে দূষিত পানি কিনতে বাধ্য হন। এই ‘গরিবের খাজনা’ বা পভার্টি পেনাল্টির কারণে বিত্তবান অংশ দরিদ্রদের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি সুবিধা ভোগ করছে, যা সংবিধানে স্বীকৃত নাগরিক সমতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

মৌলিক অধিকার হিসেবে সুপেয় পানি

ইতিহাস বলে, ২০০০ সালে বলিভিয়ার কোচাবাম্বা শহরে বহুজাতিক কোম্পানির হাতে পানি সরবরাহ তুলে দেওয়ার পর পানির দাম অন্যায্যভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের বৃষ্টি থেকে পানি সংগ্রহও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। বাংলাদেশ যেন সেই পরিণতিতে না পড়ে, সেজন্য আমাদের বিচার বিভাগ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক সুও মোটো রায়ে (সুও মোটো রুল নং ০৯/২০২০) অত্যন্ত স্পষ্ট ও অকাট্য ভাষায় ঘোষণা করেছেন: ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের (মৌলিক অধিকার অংশের) অধীনে সুরক্ষিত জীবনের অধিকারের এক অবিচ্ছেদ্য ও জন্মগত অংশ হলো নিরাপদ ও সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকার।’ রায়ে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে ‘পানি পাওয়ার মৌলিক অধিকার যেন মুনাফা অর্জনের মানসিকতায় ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে পানি বেসরকারীকরণ সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো সরকারকে অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে।’ অর্থাৎ মুনাফার বাণিজ্যিক আগ্রাসন কোনোভাবেই মানুষের মৌলিক অধিকারকে পদদলিত করতে পারবে না।

মাননীয় বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল এবং বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের এই রায়ে প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক থেলিস অব মিলেতাসের তত্ত্বের উল্লেখ করে বলেন, পানিই পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টির আদি উপাদান। মানুষ খাদ্য ছাড়া কয়েক সপ্তাহ বাঁচতে পারলেও পানি ছাড়া মাত্র কয়েক দিন টিকতে পারে; তাই মানুষকে নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত করা মানে সরাসরি তার জীবনের অধিকার হরণ করা। বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকেই রায়ে বলা হয়,

একজন মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক শারীরিক সুস্থতার জন্য গড়ে ১.৫ থেকে ১.৮ লিটার সুপেয় পানি প্রয়োজন।

আমাদের সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি—অনুচ্ছেদ ১৫(ক) অনুযায়ী মৌলিক চাহিদার জোগান, অনুচ্ছেদ ১৮ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়ন এবং অনুচ্ছেদ ১৮এ অনুযায়ী পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতাকে অনুচ্ছেদ ৩২-এর ‘জীবনের সুরক্ষার অধিকার’-এর সঙ্গে সমন্বিত করে আদালত এই আদেশ দেন। রায়ে পূর্বের ঐতিহাসিক তুরাগ নদী রায়-এর নজির টেনে ঘোষণা করা হয়—নদী ও জলাভূমি যেমন জনগণের ট্রাস্ট সম্পত্তি (পাবলিক ট্রাস্ট ডকট্রিন), ঠিক তেমনি পানিও জাতীয় সম্পদ; রাষ্ট্র এর মালিক নয়, কেবল রক্ষক বা অভিভাবক।

এছাড়া সোনারগাঁ ইপিজেড মামলা, হাতিরঝিল মামলার নজির স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত রামসার কনভেনশন ও জলাভূমি রক্ষার নির্দেশ দেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কলম্বিয়ার আত্রাতো নদী রায়, নিউজিল্যান্ডের তে আওয়া তুপুয়া আইন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাজিবুকো মামলার মতো বাংলাদেশেও সুপেয় পানি এখন থেকে একটি সরাসরি বিচারে দাবিযোগ্য মৌলিক অধিকার।

জনপরিসরে বিনামূল্যে পানি ও এক দশকের রোডম্যাপ

জাতিসংঘের প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা যে করপোরেট দখলাদারত্বের কথা বলেছেন, আমাদের হাইকোর্ট বিভাগও সেই বিষয়ে সুর মিলিয়ে রাষ্ট্রকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন—‘‘মুনাফার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য যেন মানুষের সুপেয় পানি পাওয়ার মৌলিক অধিকারকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে পানি বেসরকারীকরণের সকল ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে।’’

প্যারিস শহর যেভাবে পানির বেসরকারীকরণ রদ করে গণপরিসরে বিনামূল্যে শত শত ড্রিংকিং ফাউন্টেন বসিয়েছে, আমাদেরও সেই পথ ধরতে হবে। হাইকোর্ট বিভাগ এই রায়ে নির্বাহী বিভাগের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশাবলি প্রদান করেছেন— আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সকল রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, বিমানবন্দর, কাঁচাবাজার, সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, আদালত প্রাঙ্গণ ও আইনজীবী সমিতি ভবনগুলোতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসম্পন্ন সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি উপকূলীয় লোনা অঞ্চল, পাহাড়ি দুর্গম এলাকা এবং খরাপ্রবণ জনপদে বিনামূল্যে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য অধিক জনসমাগমস্থলে বিনামূল্যে এবং গৃহস্থালির ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও সমতার ভিত্তিতে সুপেয় পানি সরবরাহের জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে বলেছেন হাইকোর্ট বিভাগ। আদেশের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মামলাটিকে কন্টিনিউয়িং মান্দামাস হিসেবে রাখা হয়েছে, যার অধীনে স্থানীয় সরকার বিভাগ সচিবকে প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে।

হাইকোর্ট বিভাগ এই রায়ে কৃত্রিম উপগ্রহ ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে সকল জলাভূমির ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে দ্বিমাসিক পরিবেশ পাঠদান, স্থানীয় সরকার কর্তৃক ত্রৈমাসিক গণসচেতনতা কর্মসূচি এবং পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে ইকোসাইড আইন প্রণয়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও এখনই করণীয়

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি বিশ্ব জলবায়ু মঞ্চে ক্ষতিপূরণ ও পরিবেশগত সুবিচারের পক্ষে প্রতিনিয়ত নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—পানির এই আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বিশ্বে অগ্রগামী ভূমিকা নিতে হবে। দেশের কোটি কোটি প্রান্তিক মানুষ, উপকূলের লোনাপানির সঙ্গে লড়াই করা নারী এবং শহরের বস্তিবাসী মেহনতি মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকারকে প্রথাগত দাতানির্ভর বা বাণিজ্যিক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে ‘অধিকারভিত্তিক পথ’ গ্রহণ করতে হবে।

এখনই জরুরি করণীয় হলো—১. জাতীয় পানি আইন ২০১৩ পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করে শহরের প্রতিটি বস্তিতে আইনি পানির সংযোগ দেওয়া এবং ওয়াটার মাফিয়াদের সিন্ডিকেট চিরতরে ভেঙে দেওয়। ২. নদী ও পরিবেশ দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘দূষণকারীই দেবে’ নীতি প্রয়োগ করে কঠোর শাস্তি ও জরিমানা আদায় করা। ৩. উপকূলীয় ও খরাপ্রবণ এলাকায় দ্বৈত-প্ল্যাটফর্মের হাতকল, রিভার্স অসমোসিস ও রেইনওয়াটার হারভেস্টিং প্রযুক্তির জন্য বিশেষ জাতীয় বাজেটে পৃথক অর্থ বরাদ্দ রাখা। ৪. প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৫০ লিটার সুপেয় পানি ৩০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বের মধ্যে পাওয়া নিশ্চিত করা এবং ৫. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জুলিয়ানা মামলা বা ভারতের এম. সি. মেহতা মামলার মতো দেশের তরুণ প্রজন্ম ও আইনজীবীদের সাংবিধানিক এই অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখা।

পানির অপর নাম যদি হয় জীবন, তবে সেই জীবনকে বোতলে বন্দি করে কিংবা পাইপলাইনে আটকে তার গায়ে বাণিজ্যিক প্রাইস ট্যাগ বসানো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। হাইকোর্ট বিভাগ এই ঐতিহাসিক রায় বাংলাদেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় সনদ। বিশ্ব যখন ‘পানি দেউলিয়াত্বের’ দ্বারপ্রান্তে, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্বে এবং আদালতের নির্দেশ মেনে বাংলাদেশ যদি প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুপেয় পানিকে বিনা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ও সমতার ভিত্তিতে পৌঁছে দিতে পারে, তবে তা বিশ্বের ইতিহাসে এক অমর নজির হয়ে থাকবে। পানির ওপর কোনও বাণিজ্যিক কোম্পানির মালিকানা মেনে নেওয়া যায় না—পানির এই সাংবিধানিক অধিকারকে, আমাদের এই মৌলিক অধিকারকে জয়ী হতেই হবে। যে জল মেটায় মানুষের তৃষ্ণা, যে জল জুড়ায় মানুষের হিয়া, তা-ই তো পরম পবিত্র। তারে কোনও বৈষম্য বা পণ্যের মাপে অপবিত্র করো না। [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চণ্ডালিকা] সুপেয় পানি, বাণিজ্যিক পণ্য নয়, মৌলিক অধিকার হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হোক।

লেখক: উন্নয়নকর্মী