তানোরে ধানের বদলে সবজি চাষ, কৃষকের মুখে হাসি

তানোরে ধানি জমিতে সবজি চাষএক সময় যেসব জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে এখন সেসব জমিতে ধানের বদলে কৃষক সবজি চাষ করছেন। বাজারে ধানের তেমন মূল্য না পাওয়ায় সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষকরা। এতে করে তানোরের মাঠ এখন সবুজের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।  এদিকে, ধানের বদলে সবজি চাষ করে কৃষকেরা বেশ খুশি। তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
আরও পড়তে পারেন: ৩৭টি হত্যাকাণ্ডের ২৫টিতে জড়িত জেএমবি
তানোর কৃষি সম্প্রাসরণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে লাউ, ৭ হেক্টর জমিতে পটল,১২ হেক্টর জমিতে লাল কুমড়া, ৮ হেক্টর জমিতে চিচিংগা, ৬ হেক্টর জমিতে পাহাড়ী ওল এবং ১ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়েছিল। এ মৌসুমে তার চেয়ে আরও ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ  হয়েছে।
রাজশাহী তানোরে পাহাড়ি ওল, লাউ, পটল চিচিংগা,ওল কচু চাষে উৎপাদন খরচ ও পানি কম লাগার পাশাপাশি লাভ বেশি হওয়ার কারণে চাষাবাদ বেড়েছে কৃষকদের।
তানোর উপজেলার সরনজাই, চান্দুড়িয়া, তাতিহাটি, চককাজিয়া, কাননা, ধানতৈড়, ধানুরা, তালন্দ নামপাড়া, কলমা হাটবিল্লি পাড়া এলাকায় চলতি মৌসুম ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করেছে কৃষক।
সরনজাই এলাকার সবজি চাষী গনি মিয়া জানান, আমন ধানের দাম না পেয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই ধানের বদলে বাড়ির পাশে ২০ শতক পটল ও ১০ শতক জমিতে চিচিংগা চাষ করা হয়েছে।
তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের পরিবেশের ওপর স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কৃষক ইউছুব আলী জানান, আগে ধান চাষ বেশি হতো। বর্তমানে ধান চাষের পাশাপাশি বেগুন, কাঁচা মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পটল, চিচিংগা, লালকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি বেশি উৎপাদন করা হচ্ছে। সবজির মধ্যে কয়েক বছরে পাহাড়ি ওলের চাষ বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, অন্য সবজির চেয়ে পাহাড়ি ওলের ফলন ভাল হয় এবং বাজারে আলুর চেয়ে দাম ভাল। তাই চলতি মৌসুমে তিনি অন্য সবজির পাশাপাশি ১০ শতক জমিতে পাহাড়ী ওল চাষ করেছেন।
তানোর উপজেলার মোহাম্মাদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত বছর লতিরাজ জাতের কচু ৩ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলেন। বীজসহ উৎপাদন খরচ হয়েছিল প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। ফলন হয়েছিল ২০০ মণ। বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ কচু ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। খরচ বাদে এক বিঘা জমি থেকে বছরে আয় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বিগত ১০ বছর ধরে কুড়ি কচু ওল চাষাবাদ করে আসছি। বর্তমানে ধানের আবাদ এজন্য কমিয়ে ফেলা হয়েছে।  
তিনি আরও বলেন, সবজি ফসল উৎপাদন করে আমি অনেক লাভবান হয়েছি। ছেলে সন্তান মানুষ করা থেকে শুরু করে সবজি ফসলের লাভ দিয়ে মোহাম্মাদপুর বাজারে কয়েক বছরের ব্যবধানে ১টি মার্কেট নির্মাণ করেছি।
তানোর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার জানান, সবজি চাষ জেলার পুঠিয়া, পবা, মোহনপুর, চারঘাট উপজেলায় বেশি হতো। অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভ। বেশি ফলন হয়। বাজারে আলুর চেয়ে এখন পাহাড়ি ওলের দাম বেশি পাওয়ায় ওলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের।

আরও পড়তে পারেন: তনুর প্রথম ময়নাতদন্তে তথ্য ভুল ছিল: শিল্পমন্ত্রী

 

 /এমএসএম /