সংবাদ সম্মেলনে রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী মিনারা বেগম জানান, ২০১২ সালের ৫ মার্চ ফার্মগেট এলাকা থেকে তার ছেলে ইমাম হাসান বাদলকে (২৪) অপহরণ করা হয়। অপহরণের পরেরদিন র্যাব-২ অপহরণকারী জাহিদ ও বাবুলসহ বাদলকে উদ্ধার করে। কিন্তু দীর্ঘ ৪ বছর পার হলেও র্যাব বাদলকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফেরত দিতে পারেনি।
তারা আরও জানান, ছেলেকে ফেরত পেতে তিনি র্যাব-পুলিশ, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, মানবাধিকার কমিশনসহ দেশের বিভিন্ন দফতরে বার বার যোগাযোগ করেও কোনও সুরাহা করতে পারেননি। অবশেষে সংবাদ সম্মেলনে ছেলেকে ফেরত পেতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গুমের শিকার বাদলের বাবা রুহুল আমিন জানান, ছেলেকে র্যাব উদ্ধার করেছে এ কথা অপহরণকারীরাই মোবাইল ফোনে তাকে জানায়। মোবাইল ফোনে ছেলে উদ্ধারের খবর পেয়ে ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় র্যাব-২ অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখানে র্যাবের পরামর্শে তেজগাঁও থানায় একটি জিডিও করেন। (জিডি নং: ৭৪০, তারিখ: ১৩ মার্চ ২০১২)। এরপর র্যাব-২ এর ডিউটি অফিসার এসআই রাজু একটি আবেদনে স্বাক্ষর নিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা লেনদেনের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। এসময় রুহুল আমিন র্যাবের পোশাক পরিহিত এসআই রাজুকে নগদ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপর প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে ছেলের জন্য ঢাকার মানবাধিকার কমিশন, র্যাব ক্যাম্প, থানা, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও আজ পর্যন্ত ছেলের কোনও হদিস পাননি তিনি। তার অভিযোগ, র্যাব তার ছেলেকে উদ্ধারের পর ফের গুম করেছে।
বাদলের মা মিনারা বেগম বলেন, ছেলের আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলতো। এখন আমরা একবেলাও ঠিকমত খেতে পারি না। ছেলে ফেরত আসবে এই আশায় বেঁচে আছি। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
/এআর/আপ-এসএনএইচ/