শুক্রবার দুপুর একটার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ শচিন চন্দ্র রায়কে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।
একই সঙ্গে ওই শিক্ষককে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা এবং দুর্নীতি বন্ধসহ ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা মেরে দেয়। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়।
কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাসিব, সুমন, রেজা ও দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ৫০ টাকা করে নেওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২শ’ টাকা করে।
অধ্যক্ষের নির্দেশে ব্যবহারিক পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মোশারেফ হোসেন ও পার্থ হালদার নির্দিষ্ট একটি লাইব্রেরি থেকে ব্যবহারিক খাতা কেনা বাধ্যতামূলক করে দেন। যেখানে অন্য লাইব্রেরি থেকে তিনগুণ মূল্য রাখা হয়। অধ্যক্ষ এবং অন্য দুই শিক্ষকের নির্দেশে খাতার মূল্য বেশি রাখার বিষয়টি জানতে পেরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক শচিন রায় ক্যাম্পাসে আসলে তিনি শিক্ষার্থীদের রোষাণলে পড়েন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করলে অধ্যক্ষ ক্যাম্পাস থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে রক্ষা পান।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে ইফতার পার্টির আয়োজন চলছিল। এতে এমপি জেবুন্নেছা আফরোজের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছেন অধ্যক্ষ। যা অন্য শিক্ষকরা জানতেন না।
এছাড়াও কলেজ অধ্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্নখাতে দুর্নীতি করে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়ে ৫০ টাকা খরচেই প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণের সম্পতি জানিয়েছেন পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মোশারেফ হোসেন এবং পার্থ হাওলাদার।
অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ শচিন রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে অপর দুই শিক্ষক মোশারেফ হোসেন ও পার্থ হালদার বলেন, অধ্যক্ষ স্যার তাদের যেভাবে বলেছেন তারা সেভাবেই করেছেন।
/এসএনএইচ/