শোলাকিয়া ঈদ জামাতে হামলাকারী নিহত ব্যক্তি নাম আবির রহমান বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আবিরের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ত্রিবিদ্যা গ্রামে। তবে সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকতো। সেখান থেকেই আট মাস আগে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায় সে। তার বাবার নাম সিরাজুল ইসলাম।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, আবির নিখোঁজ থাকার বিষয়ে ঈদের আগের দিন ভাটার থানায় জিডি করেছিল তার বাবা।
এদিকে, আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় আবিরের গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেছে পুলিশ। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, গ্রামের বাড়ির সঙ্গে কোনও সম্পর্কই ছিলো না আবিরের পরিবারের। সেই ভিটায় তাদের ঘর পর্যন্ত নেই। আবিরের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসাতে। তার চাচা সহিদুল ইসলাম পুলিশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দেবিদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ত্রিবিদ্যা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আবিরের পরিবারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
পুলিশের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র নিহত আবির রহমান ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় পল্লী বিদ্যুতের একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। তারা থাকেন ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ৪ ভাইয়ের মধ্যে আবির ছিল সবার ছোট। বড় ভাই এবং বাবা ঢাকায় পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত। অপর মেজো ও সেজো ভাই অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। আবির প্রায় ৮ মাস আগে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা ছেড়ে যায়। এ নিয়ে ঢাকার ভাটরা থানায় জিডি করে তার পরিবার। আবিরের জন্মও ঢাকার বাসায়। ছোটবেলায় সে দুই-একবার গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। এরপর থেকে গ্রামের বাড়িতে আর পা পড়েনি তার।
আবির বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল ইন্সস্টিটিউট থেকে এ লেভেল সম্পন্ন করে। বাবা সিরাজুল ইসলামও খুব বেশি বাড়ি আসেননি। শোলাকিয়ায় পুলিশের ওপর হামলার পর গুলিতে কুমিল্লার দেবিদ্বারের আবির রহমান নিহত হয়েছে এলাকাবাসী এমন খবর শুনলেও শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত জানতো না আবিরের পরিচয়। এদিন সন্ধ্যার দিকে দেবিদ্বার থানা পুলিশ তার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরই গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানতে পারে।
নিহত আবিরের চাচা সহিদুল ইসলাম জানান, বাড়িতে পুলিশ আসার পরই জানতে পেরেছি আমার ভাতিজা আবির গুলিতে নিহত হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘বাড়ির সঙ্গে ওই পরিবারের তেমন কোনও যোগাযোগ ছিল না। ভাই সিরাজুল ইসলাম বছরে ২/১ বার গ্রামে আসতেন, বাড়িতে তাদের কোন ঘরও নেই।’
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘বিকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মহোদয়ের ফোন পেয়ে আবিরের বাড়িতে ছুটে এসেছি, কিন্তু নিহত আবিরের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বাড়ির স্বজনদের কোনও যোগাযোগ না থাকায় তারা আবির সম্পর্কে কোনও তথ্য দিতে পারেনি।’
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের আধা কিলোমিটারের মধ্যে বোমা হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত এবং কমপক্ষে ১২ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। তার নাম ঝর্ণা রানি ভৌমিক। নিহত অপরজন হামলাকারী বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে গুলশানের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারীদের মধ্যে নিবরাস ইসলাম একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
/টিএন/
আরও পড়ুন:
নিশা দেশাই আগামী সপ্তাহে ঢাকা আসছেন
ভারতীয় নিরাপত্তা দলের আসার খবর নিয়ে বিভ্রান্তি
গুলশান হামলার ‘সন্দেহভাজন’ শাওন মারা গেছে
শোলাকিয়া হামলার ‘সন্দেহভাজন’ শাফিউল আড়াই বছর আগেই বাড়ি ছাড়েন
নিশ্চুপ হেফাজত, তীব্র নিন্দা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর
মক্কার খতিবকে ঢাকায় আনার চেষ্টা: আলেমদের মধ্যে প্রতিযোগিতা