জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলায় জেলায় পালিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতা অনুরাগী সাধারণ মানুষের বিভিন্ন কর্মসূচি।
বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে, বিভিন্ন জেলা শহরে উদযাপিত কর্মসূচিগুলো উঠে এসেছে।
যশোর: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে যশোরে জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের বকুলতলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে সাবেক মেয়র কামরুজ্জামান চুন্নু, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দার রহমান, পৌর কাউন্সিলর মোকশিমুল বারী অপু, সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সেক্রেটারি মেহেদি হাসান মিন্টু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সেতারা বেগম, যুবলীগ নেতা মঈনুদ্দিন মিঠু, ছাত্রলীগ নেতা লুৎফুল কবির বিজু প্রমুখ।
এরপর তিনি যশোর শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।
এরপর জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি শোক র্যালি বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিনব্যাপী ও মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জেলায় পালিত হয়েছে জাতীয় শোক দিবস। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো ব্যাজধারণ করা হয়। সকাল ৯টায় জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম। পরে পুলিশ প্রশাসন, জেলা জজশিপ, আইনজীবী সমিতি, জেলা পরিষদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, বিএমডিএ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট, উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
পরে শোক র্যালি এবং “বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কীর্তি” শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়।
সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসক ড. বশিরুল আলম, পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন স্তরের মানুষ। পরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স থেকে র্যালি বের হয়ে রাসেল স্কয়ারে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পরে শোক র্যালিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হ্যাপি বড়াল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এছাড়া, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পবিত্র কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, মন্দির-গির্জা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন জেলার বিভিন্ন স্থানে খাদ্য বিতরণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেছে।
শোক র্যালিতে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মিসেস কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী, মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকবর আলী মর্জি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।
বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো পতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ, র্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া-মাহফিল, এতিম শিশু, হাসপাতালের রোগী, জেলখানার কারাবন্দিদের বিশেষ খাবার সরবরাহসহ নানা আয়োজন।
ভোলা: জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ভোলা জেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে পৃথক শোক র্যালি, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন, পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুব্রত কুমার সিকদার প্রমুখ।
পরে নছির আহম্মদ ভূঁইয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীপুর (সদর)-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম শাহ্জাহান কামাল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, পুলিশ সুপার আ.স.ম মাহাতাব উদ্দিন, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আলাউদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, সিভিল সার্জন আব্দুল্যা খালেদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, আওয়ালীগের নেতা নহরুল ইসলাম ভূলু. রাসেল মাহমুদ মান্না, মোশারফ হোসেন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক শেখ জামাল রিপন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন লোটাস প্রমুখ।
এছাড়া খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বগুড়া, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, পিরোজপুর, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নীলফামারী, জামালপুর, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নড়াইল, নাটোর, নওগাঁ, শেরপুর, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
যেভাবে দাফন করা হয় বঙ্গবন্ধুকে
/বিটি/