মোবাইল ব্যবহারে বাধা

ছাত্রের নেতৃত্বে ১১ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে মারধর

উলপুর পিসি উচ্চ বিদ্যালয়

গোপালগঞ্জে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় এক ছাত্রের নেতৃত্বে ১১ শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুরে এ ঘটনা ঘটেছে।

আহতরা হলেন উলপুর পিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার বিশ্বাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক রতন চন্দ্র পাল, সহকারী শিক্ষিকা বনানী রায়, মানসী বিশ্বাস, অর্জুন সরকার, আয়ূব মোল্লা, অখিল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া, স্বপন কুমার বিশ্বাস,শামীম সরদার,সমশের আলী মোল্লা ও বিনয় সরকার অনাদী।  

আহত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার  বিশ্বাস (৫০)  ও সহকারী শিক্ষিকা বনানী রায়কে (৩৬) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ বেডের জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সাজ্জাদ মিনা ও মোছা মিনা নামে দু’ জনকে আটক করেছে।  গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে দুপুরে উলপুর পিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

ওই স্কুলের সহকারী  শিক্ষক অখিল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া জানান, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধি-নিষেধ রয়েছে। গত ১৪ আগস্ট নবম শ্রেণির ছাত্র জামিল মিনা জনি স্কুলে মোবাইল নিয়ে আসে। বিষয়টি জনির সহপাঠীদের মাধ্যমে প্রধান  শিক্ষক জানতে পারেন। প্রধান শিক্ষক শ্রেণি শিক্ষক সমশের আলী মোল্লাকে মোবাইল উদ্ধার করে  তার কাছে রেখেদেওয়ার  নির্দেশ দেন। মোবাইল নিয়ে টিফিন পিরিয়ডে সিদ্ধান্ত হবে বলেও প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষককে জানান। শ্রেণি  শিক্ষক জনির কাছ থেকে  মোবাইল উদ্ধার করে তার কাছে রেখে দেন। ক্লাস শেষে জনি শিক্ষক সমশের আলীর কাছে মোবাইল ফেরত চায়। সমশের আলী তাকে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে মোবাইল ফেরত নেওয়ার কথা বলেন।

 এরপর জনি প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে মোবাইল ফেরত চাইলে টিফিনের সময় দেওয়া হবে বলে প্রধান শিক্ষক জানান। এসময় জনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে  তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে জনিকে থাপ্পড় দেন। এসময় জনি প্রধান শিক্ষককে  শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।  এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা  ক্ষিপ্ত হয়ে জনিকে মারধর করে। জনির পিতা হোসেন মিনা ও তার লোকজন বিষয়টি ২৪ আগস্ট মিমাংসা করে দেবেন বলে জানান।

সহকারী  শিক্ষক অখিল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া আরও জানান, ১৫ আগস্ট স্কুল বন্ধ ছিল। কিন্তু এরইমধ্যে তারা স্কুলের শিক্ষকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে। আজ মঙ্গলবার সকালে ১১ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকা স্কুলের যাওয়ার জন্য উলপুর বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এ সময় জনি ও তার পিতা হোসেন  মিনার নেতৃত্বে ইউপি মেম্বার রইচ মিনা, এলাকার বাসিন্দা এনায়েত মিনা, আনোয়ার মিনা, শাহাবুদ্দিন, মোছা মিনা, স্কুলের সাবেক ছাত্র সজিব মিনা, রাজিব মিনা, রানা মিনা, লিপ্টন মিনা, বেলায়েত মিনা, সাজ্জাদ মিনা সহ ১৪ /১৫ জন লাঠি, রড, হকিস্টিক নিয়ে শিক্ষক ও ম্যাডামদের ওপর হমলা চালিয়ে বেদম পিটিয়ে আহত করে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, মোবাইল ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় জনি ও তার পিতা হোসেন মিনার লোকজন ৯ জন শিক্ষক ও দুই জন শিক্ষিকাকে পিটিয়েছে। আমরা এ ঘটনার পর গোপালগঞ্জ শহরে চলে এসেছি।

স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা  দোষীদের গ্রেফতার ও ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। বিষয়টি পুলিশ সুপার এসএম এমরান হোসেনেকে জানানোর পর তিনি আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে থানায় মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত উলপুর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর রইচ মিনা বলেন,  শিক্ষকদের ওপর হামলা ও  মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ বিষয়টি মিমাংসা করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে মারপিটের সময় আমি ছিলাম না। আমি এলাকার মেম্বর এবং ব্যবসা বাণিজ্য করি । এ কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে ফাঁসাতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা বলেন, এ ঘটনায় আমরা দুই জনকে আটক করেছি। শিক্ষকদের অভিযোগ পেয়েছি। মমলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার তদন্তে ও  দোষীদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে রয়েছে। 

/এফএস/এপিএইচ/

আরও পড়ুন:
চার নারী জেএমবি: মানারাতের তিন, ঢামেকের এক

সিটিসেল বন্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত