জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় শাহপরীর দ্বীপের বেড়ি বাধেঁর জন্য একনেকে ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন দেওয়ার খবরে দ্বীপের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানী শেরেবাংলা নগরের এনসি সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টেকনাফের আরও কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাবে, এমনটিই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানান, শাহপরীর দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি নির্মাণে ১০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে।
দেশের সীমান্ত উপজেলা কক্সবাজারের টেকনাফ। এই উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের সর্বদক্ষিণে সাগরের নিকটবর্তী গ্রাম শাহপরীর দ্বীপ। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে সাগরের করাল গ্রাসে একের পর এক বিলীন হয়ে যায় বেড়িবাঁধ। প্রতিদিন জোয়ারের পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এই গ্রামের অনেকেই নিজের বাপ-দাদার ভিটে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানে। যারা এখনও নিজের জন্মভূমিকে আগলে ধরে আছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে এগোনোয় তাদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
শাহপরীর দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে ক’জন আব্দুল আমিন, আব্দুস সালাম, জসিম ও রেজাউল করিম। তারা জানান, জোয়ারের পানি স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় গত এক সপ্তাহে অন্তত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি সাগরে তলিয়ে গেছে। গত ৩ বছর ধরে দ্বীপের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বন্ধ। একমাত্র সড়কটির প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে কোথাও যাতায়াতের জন্য এখন নৌকাই তাদের একমাত্র বাহন।
টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শাহপরীর দ্বীপের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থেকে রক্ষা পাবে এবং জোয়ারের পানি বা ঢেউয়ের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
/এইচকে/