প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কেবল বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন, রাঙামাটি জেলা থেকে লাইসেন্স গ্রহণ ও যেসব মাছ ধরা হবে তাদের নির্ধারিত শেয়ার/শুল্ক প্রদান সাপেক্ষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করা যাবে।
তবে কাপ্তাই হ্রদে পাঁচটি অভয়াশ্রমে কোনও প্রকার মাছ শিকার করা যাবে না। এই পাঁচটি অভয়াশ্রম হলো- ফিশারি ঘাটের সম্মুখে হ্রদাংশের দুই বর্গ কিলোমিটার, লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সংলগ্ন দুই বর্গ কিলোমিটার, জেলা প্রশাসক বাংলো সংলগ্ন ১২ বর্গ কিলোমিটার, রাঙামাটি বনবিহার এলাকা সংলগ্ন ৫৩.৫০ একর এলাকা এবং নানিয়ার উপজেলার ছয়কুড়ি বিলের ২০০ একর ঘোষিত অভয়া্শ্রম। নয় ইঞ্চির নিচে কোনও পোনা মাছ ধরা যাবে না। বিএফডিসির নির্ধারিত অবতরণ কেন্দ্র ব্যতীত অন্য কোথাও মৎস্য অবতরণ করা যাবে না এবং মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ ব্যতীত কোনও মাছ বা শুটকি বিক্রয় করা যাবে না। তবে রাঙামাটি অধিবাসীদের জন্য বাজারে বিক্রয়কৃত মাছের ওপর কোনও শুল্ক ধার্য করা হবে না।
গত ১২ মে মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকারের ওপর জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কাপ্তাই হ্রদের মাছের স্বাভাবিক প্রজননের জন্য প্রতিবছর সাধারণত তিন মাস বা তার অধিক সময় মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়।
কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা, সংরক্ষণ ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, চলতি মৌসুমে মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের সময়কাল অতিক্রান্ত হয়েছে এবং হ্রদে অবমুক্তকৃত মাছের পোনার আকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ পুনরায় শুরু করা যায়। তবে মাছ ধরা মৌসুমে পোনা মাছ নিধন, কারেন্ট জাল ও মশারি জাল এর ব্যবহার বন্ধ, জাঁক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বন্ধকল্পে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এমএসএম/