পাটের কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মেহেরপুরের চাষিরা।প্রয়োজনীয় সংখ্যক জলাশয় ও পুকুর না থাকায় কাঁদা মাটি চাপা দিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে চাষিদের। এ কারণে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের পাটের মূল্য থেকে মণ প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কম পাচ্ছেন তারা।
জানা যায়,মেহেরপুর জেলায় সাধারণত ভারতীয় ও দেশি তোষা পাটের চাষ করেন চাষিরা। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।পুকুর ও ডোবায় পানি না থাকায় স্যালো মেশিনে পুকুরে পানি দিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে বিঘা প্রতি বাড়তি এক হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়,জেলায় এবার প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।এতে প্রায় ৮৮ হাজার টনপাট উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কুঞ্জনগর গ্রামের পাট চাষি আশরাফুল ইসলাম জানান,‘কৃষি অফিস পলিথিন,বালি ও বস্তা ভর্তি ইট দিয়ে পাট জাগ দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।কিন্তু জায়গা ও সময় স্বল্পতা ছাড়াও এটি ব্যয়বহুল হওয়ায় চাষিরা কেউ এ পরামর্শ মানছেন না।’
মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের চাষি রহিদুল ইসলাম জানান,‘বিঘা প্রতি জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হলেও পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না। আবার ভৈরব নদীতে পাট জাগ দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ’।
পাট ব্যবসায়ী তানজিলুর রহমান জানান,‘বিভিন্ন জেলা থেকে তিনি পাট কিনে দেশের বিভিন্ন মিলে বিক্রি করে থাকেন। এখানকার পাটের স্থায়ীত্ব কম।এছাড়া কাদামাটি দিয়ে পাট জাগ দেওয়ার কারণে পাটের রং কালো হয়। ফলে মিল মালিকেরা কাঙ্ক্ষিত দাম দিতে চান না।’ তিনি আরও বলেন,‘উত্তর বঙ্গের জেলাগুলোতে পাট বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা,ফরিদপুর অঞ্চলে পাট বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।অথচ মেহেরপুরের পাট বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা করে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান,‘কাদামাটি দিয়ে পাট জাগ না দিয়ে, পাটের জাগের ওপর ইট বা পলিথিনে মাটি ভর্তি করে জড়িয়ে রাখাতে হবে।তাহলে পাট কালচে হবে না।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেজবাহুল হক জানান,‘পাট জাগ দেওয়ার ফলে দেশীয় মাছ উৎপাদন ব্যহত হয়।দেশীয় মাছ বৃদ্ধি যেন ব্যহত না হয়, সে কারণে মুক্ত জলাশয়ে পাট পচানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’
/এমডিপি/এপিএইচ/