সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধুনটের সরকারপাড়া অধিকাংশ পরিবার সনাতন ধর্মাবলম্বী। গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীতে ধুনট সদর, চরধুনট, দাসপাড়া ও মালোপাড়াসহ আশপাশের প্রতিমা এক সাথে বিসর্জন দেওয়া হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শতাব্দী প্রাচীন এ মেলায় দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন বয়সের উৎসুক নারী-পুরুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়।
ধুনট সদর থেকে পূর্ব দিকে মেলার দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। মেঘলা আকাশে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও জনগণ হেঁটে ও বিভিন্ন যানবাহনে মেলায় পৌঁছান। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সরকারপাড়া হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। মেলায় হিন্দু ধর্মালম্বী লোকজন আসে ভক্তি আর মানত নিয়ে। সব অপশক্তি বিনাস করে কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় দেবী দুর্গা মর্তোলোক ছেড়ে এক বছরের জন্য চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখাই এই মেলার প্রধান আকর্ষণ। বিজয়া দশমীতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মেলার সমাপ্তি হয়।
মেলায় আগত সরকারপাড়ার সুরভী রানী, আরতী রানী ও কুলসুম বেগম জানান, ‘মেলার ভেতরে পুরুষ মানুষ না থাকায় অনেক স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করেছেন। দামও নাগালের মধ্যে ছিল। তবে বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’
কলেজ ছাত্রী মুক্তি সাহা নিজের জন্য নেইলপলিস, মাথার ব্যান্ড, কাঁচের চুড়ি ও ছোট বোনের জন্য চুড়ি-ফিতার পাশাপাশি চকলেট ও চুইংগাম কিনেছেন। স্কুল শিক্ষিকা শিল্পী রায় কিনেছেন, কসমেটিক্স আর ছেলের জন্য বাঁশি, বেলুন ও পটকা। তারা জানান, প্রতি বছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন। সংসারে কাজ ও লেখাপড়ার চাপ থাকলেও মেলায় ছুটে আসেন।
মেলা কমিটির সভাপতি নিতাই চন্দ্র দেব জানান, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মেলা শেষ হয়েছে। মেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল রাখতে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং এলাকাবাসীরা অনেক সহযোগিতা করেছেন।’
/এসএনএইচ/