কর্তৃপক্ষ বলছেন, ছাত্রাবাস খোলার পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। আরও কিছুদিন পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসনিক অলসতার কারণেই ছাত্রাবাস বন্ধ রয়েছে।
ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউটের লালন শাহ ও মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবাস শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একজন করে আহত হন। ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য দুটি ছাত্রাবাস বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ দেয়। তবে ক্যাম্পাস খোলা থাকে। ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রীনিবাসও খোলা রয়েছে। ঘটনার প্রায় দুই মাস হতে চলেছে, তারপরও দুটি ছাত্রাবাস খুলে দেওয়া হয়নি। এর ফলে ছাত্রাবাসের অন্তত আড়াইশ ছাত্র দুর্ভোগে পড়েছেন।
শহরের লালন শাহ ছাত্রাবাসের আবাসিক ছাত্র সুইথোয়াই মারমা পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি খাগড়াছড়িতে। ছাত্রাবাস বন্ধ হওয়ার পর তিনি শহরের আড়ুয়াপাড়ায় একটি মেসে থাকছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি ছোট কক্ষে আটজনকে থাকতে হয়। ছাত্রাবাসের মতো এখানে পড়াশোনার পরিবেশ নেই। খরচও বেশি হচ্ছে।’
ওই ছাত্রাবাসের আরেক ছাত্র কাসেদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে থাকলে অনেক বিষয়ে বই কিনতে হয় না। সহপাঠী এবং বড় ভাইদের সহযোগীতা পাওয়া যায়। কিন্তু বাইরে খরচ বেশি, কষ্টও বেশি।’
মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই ঘটনার পর দুটি হলের নেতাকর্মীরা সব ভুলে গেছেন। তারা একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করছেন। কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও ছাত্রাবাস খোলার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
প্রতিদিন চুয়াডাঙ্গা থেকে ট্রেনে করে ইনস্টিটিউটে আসেন চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাহিদুল করিম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোর পাঁচটায় বাড়ি থেকে বের হতে হয়। তারপর সকাল আটটায় ক্লাসে আসি। এতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।’
লালন শাহ ছাত্রাবাসের ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই দিনের ঘটনার পর শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছি। দূরে বাড়ি এমন ছাত্রদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ছাত্রাবাস দুটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তারপরও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান প্রামাণিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ছাত্রাবাস বন্ধ রাখতে চাই না। কিন্তু জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের নেতারা ছাত্রাবাস খুলতে নিষেধ করেছে। এটি খুলে দিলে আবারও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এ রকম তথ্য প্রশাসন থেকেও পাওয়া গেছে।’
/এসএনএইচ/