নাসিক নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলরদের ২৯ জনই মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন

নাসিক নির্বাচন ২০১৬গত ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে বিজয়ী ২৭ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নয় জন নারী কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৯ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার গণ্ডি পেরোতে পারেননি। বাতি সাত কাউন্সিলরের মধ্যে এইচএসচি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চার জন এবং বাকি মাত্র তিন জন স্নাতক ডিগ্রিধারী। বিজয়ী এসব কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৬ জনই ব্যবসায়ী। নির্বাচিত এসব জনপ্রতিনিধিদের ১৯ জনের নামে রয়েছে মামলাও। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সুজনের এক সংবাদ সম্মেলনে নাসিক নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলিপ কুমার সরকার, সুজন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান ও সেক্রেটারি ধীমান সাহা জুয়েল।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ী একজন মেয়র, ৯ জন নারী কাউন্সিলর ও ২৭ জন কাউন্সিলর মিলিয়ে মোট নির্বাচিত ৩৭ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ২৯ জনেরই নেই মাধ্যমিক ডিগ্রি। কাউন্সিলরদের একজন নির্বাচনি ফর্মে শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর পূরণ করেননি। তাকে হিসাবে নিলে ৩৭ জন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ২৩ জনই বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। বাকিদের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন চার জন এবং স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী রয়েছেন মাত্র তিন জনের। এই তথ্য অনুযায়ী, নাসিক নির্বাচনে স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীরাই জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন।
সুজনের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩৭ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে মেয়র পদে নির্বাচিত সেলিনা হায়াৎ আইভী চিকিৎসক। বাকি ৩৬ জনের মধ্যে ২৬ জনই ব্যবসায়ী। এই ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জনই সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর। বাকি দুই জন কাউন্সিলরের একজন নিজের পেশা হিসেবে ভূসম্পত্তির মালিক ও কাউন্সিলর এবং অন্যজন কাউন্সিলর বলে জানিয়েছেন। নয় জন সংরক্ষিত (নারী)কাউন্সিলরের মধ্যে সাত জনই গৃহিণী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩৭ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে ও ১৫ জনের বিরুদ্ধে আগে মামলা ছিল। এদের ৮ জনের বিরুদ্ধে আগেও মামলা ছিল, এখনও আছে।
নবনির্বাচিত নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ২৭ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ১৭ জন বছরে ৫ লাখ টাকার কম আয় করেন। বছরে ৫ লাখ থেকে ২৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন অবশিষ্ট ১০ জন কাউন্সিলর। অন্যদিকে, নয় জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের মধ্যে ৫ জনের বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার কম। বাকিদের আয় বছরে ৫ লাখ টাকার বেশি। আবার, ৩৭ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ২৮ জনই করদাতা। এই ২৮ জনের মধ্যে ৫ হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম কর দেন ১২ জন। এক লাখ টাকারও বেশি কর দেন ৩ জন।
সুজনের এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনার চাইলেও যদি ক্ষমতাসীন দল না চায় তবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন। নাসিক নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ছিল বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

/টিআর/