মাদারীপুর সদর থানার ওসি ও এসআইকে প্রত্যাহারে হাইকোর্টের নির্দেশ

Madaripur 06-04-17 (OC and SI News) Picture

মাদারীপুর সদর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ ও এসআই মো. মাহাতাবের বিরুদ্ধে একটি পরিবারের ওপর নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশের পর এক আইনজীবীর করা রিটে হাইকোর্ট তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, হাই কোর্টের নির্দেশ হাতে পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা হাইকোর্টে পুলিশের আপিল খারিজ হওয়ার ব্যাপারে কোনও কথা বলতে রাজী হননি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর হাইকোর্টে রুল জারি হলে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ওই নির্যাতিত পরিবারের সঙ্গে পুলিশের সমঝোতা হয়। পুলিশের পক্ষ হয়ে ওই জনপ্রতিনিধি নির্যাতিত পরিবারকে অনুরোধ করে এই বিষয়ে নিশ্চুপ থাকতে ও আইনগত ব্যবস্থা না নিতে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে না, নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দেন।

এদিকে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনের কাছে ওসি ও এসআই-এর প্রত্যাহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘‌কাগজ হাতে না পেয়ে তো আমি কোনও ব্যবস্থা নিতে পারি না। বর্তমানে সদর থানার দায়িত্বে আছেন ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আবু নাঈম। হাইকোর্টের নির্দেশ হাতে পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তখন ওসিকে ডিআইজি বরাবর পাঠানো হবে।’

এদিকে সদর থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ হাইকোর্টে তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি হওয়ার পর থেকে ঢাকায় রয়েছেন সদর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ। তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেখানে অবস্থান করছেন এবং  বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তিনি মাদারীপুর আসেন নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ তারিখে মাদারীপুর শহর সংলগ্ন লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় একটি জমি-জমা সংক্রান্ত মামলার তদন্তে যান সদর থানার এসআই মো. মাহতাব। ওই এলাকায় মানুষের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই মাহতাব তাকে চড়-থাপ্পর দেয়। এ নিয়ে বাগ-বিতণ্ডা হলে সদর থানা  থেকে তিনটি গাড়িতে করে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে ওই পরিবারের ঘর-বাড়িতে ভাংচুর করে। এ সময় পনিরের স্ত্রী ৩ মাসের শিশু এবং তার ভাবী দেড় বছরের শিশুকে রেখে পুলিশের সঙ্গে যেতে বাধ্য হন। এসময় তাদের টেনে-হিচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি সাদা-কাগজে মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশ হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রানা কাওসার হাইকোর্টে রিট করেন। এর ফলে হাইকোর্ট ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: বাঘায় ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার গ্রেফতার