পরে রিয়াজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহতের স্ত্রী হালিমা বেগমের অভিযোগ অনুযায়ী তার আট বছরের মেয়েকে যে নির্যাতন এবং মর্যাদাহানি করা হয়েছে সে বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। সেটি একটি স্পেসিফিক অ্যালিগেশন (সুনির্দিষ্ট অভিযোগ) ছিল। কী কী ধরনের অন্যায় তার প্রতি করা হয়েছে সেগুলোও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সে ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করেছে এবং বাদীর সঙ্গে কথা বলেছে। কিন্তু পুলিশ কোনও লিখিত প্রতিবেদন দেয়নি।’
রিয়াজুল হক বলেন, ‘আইন বলেছে, রাষ্ট্র যাকে যে দায়িত্ব বা ক্ষমতা দিয়েছে তা যদি সে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে তবে তার দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ধরা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন যারা করেছেন তাদের সঙ্গে পুলিশও এ দায় এড়াতে পারে না। বার বার বিচারহীনতার কারণে মানুষের মধ্যে অ্যাবনরমালিটি (অস্বাভাবিকত্ব) আসতে পারে। তাই বলে কাউকে পাগল ভাবা যাবে না। সে হিসেবে আলীর স্ত্রী হালিমাকে সত্যিকার অর্থে বদ্ধ পাগল বলা যাবে না। মেডিক্যাল সায়েন্স এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।’
কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে হযরত আলীর দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি নিজেরা দখল করতে অত্যাচার-জুলুম করেছে। পরে তার মেয়েকে লাঞ্ছিত করেছে। যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তারা (জনপ্রতিনিধি) এসবের বিচার করেননি। তাই তাদের ফৌজদারি বিচারের আওতায় আইনের কাঠগড়ায় সোপর্দ করতে হবে। মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা আইনগত সহায়তা অব্যাহত রেখেছি। আমরা তাদের পক্ষে লড়ে যাবো।’
আত্মহননকারী হযরত আলীর বাড়িটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সবুর প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ২৯ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় কর্ণপুর গ্রামের হযরত আলী ও তার মেয়ে আয়েশা আক্তার ট্রেন লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কমলাপুর থানার ওসি মো. ইয়াসিন ফারুক মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী স্থানীয় মেম্বার আবুল হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছে। স্থানীয় পুলিশ আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে আমাদের কাছে দিয়েছে। সোমবার বিকালে তাকে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ওসি মো. ইয়াসিন ফারুক মজুমদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই নারীর করা অভিযোগের প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন-
রাজশাহীতে ঝড়ে নৌকা ডুবি, নিখোঁজ পাঁচ
ভাইকে ফাঁসাতে মেয়েকে অপহরণের নাটক!
/এআরআর/এসএনএইচ/এমপি/টিএন/