বাগেরহাটের মোল্লাহাটে একটি ‘ধর্ষণ’ মামলার জের ধরে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ তার পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার শোলাবাড়িয়ো গ্রামের।
মুক্তিযোদ্ধা তোতা মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোবহান মোল্লারা আলাদা সংসারে বসবাস করেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। উদ্দেশ্যমূলক এই মামলায় আমাদের আসামি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন,‘দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আর এখন এমন একটি মিথ্যা মামলায় জেল খেটে কবরে যেতে হবে, তা কখনও ভাবিনি। তদন্ত করে এঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হোক। তাতেও আমার আপত্তি থাকবে না। কিন্তু আমার ওপরে মিথ্যা মামলার বোঝা চাপানো হয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে এসে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হয়।’
সোবহান মোল্লার ভাই ইসমাইল মোল্লা বলেন, ‘সোবহান মোল্লা ওই নারীর বাড়িতে দিনরাত পড়ে থাকত, এ ঘটনা এলকাবাসী সকলে জানে। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে কী ঘটেছিল, তা আমরা জানি না। পরে হত্যাচেষ্টা মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় মনির মুন্সি নামের এক লোক আসামি করা হবে না বলে আমাদের কাছে টাকা চেয়েছিল। টাকা না দিতে পারায় এই মিথ্যা মামলায় আমাকেও জড়ানো হয়েছে।’
এদিকে গৃহবধূর স্বামী প্রকাশ মজুমদার জানান, মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় ওইদিন তিনি ও মনির মুন্সি একটি মোটরসাইকেলে এবং তার স্ত্রী আরেকটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। চাঁদেরহাট নামক স্থানে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি পিকআপ ভ্যান তার স্ত্রীকে বহনকারী মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রকাশ মজুমদারের ধারণা, প্রতিপক্ষের লোকেরা তার স্ত্রীকে পিকআপ দিয়ে ধাক্কা মেরেছে।
মুক্তিযোদ্ধা তোতা মোল্লাকে আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নারীকে সহায়তাকারী স্থানীয় মনির মুন্সি বলেন, ‘ঘটনার দিন ওই পরিবারের উল্লাস দেখে তাদের আসামি করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তানজিল মুন্সি বলেন,‘ওই নারীর সঙ্গে সোবহান মোল্লার সম্পর্কের বিষয়টি গ্রামের সবাই জানেন। আর হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি সঠিক নয়। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, একটি দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপ ভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর একটি মহলের ইন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ নিরীহ লোকদের হয়রানি করতে মামলা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করলেই সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
/এপিএইচ/