‘নির্দিষ্ট সময়ের’ আগেই বাজারে রাজশাহীর আম

নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাজারে রাজশাহীর আম

'ম্যাংগো ক্যালেন্ডার' মানছেন না আম ব্যবসায়ীরা। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আম পাড়ছেন তারা। ফলে অপরিপক্ক আম খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের। ২৫ মে বাজারে আসার কথা থাকলেও দুই সপ্তাহ আগেই রাজশাহীর বাজারে উঠেছে গোপাল ভোগ আম। এখন তা পাওয়া যাচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ ২৮ মে’র পর ক্ষিরসাপাত ও ১ জুনের পর লক্ষণভোগ বাজারে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি রাণী প্রসূন ও গুটি আম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ৫ জুনের আগেই ঢাকার বাজারে বিক্রি হচ্ছে আমের রাজা হিসেবে খ্যাত ‘ল্যাংড়া’।

রাজশাহীর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ল্যাংড়া আম আসতে আরও ১০-১২ দিন সময় লাগবে।

রাজশাহী নগরীর শালবাগান বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় রাজশাহীর ল্যাংড়া আম নামে যা বিক্রি হচ্ছে তা মেডিসিন মেশানো। গোপনে গাছ থেকে পাড়া হচ্ছে। এরপর তা রাজশাহী থেকে ঢাকায় চলে আসছে। রাজশাহীর প্রকৃত ফল ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের ভয়ে সময়ের আগে আম বাজারে উঠাচ্ছেন না। কারণ ধরা পড়লে জরিমানা গুনতে হবে। এর আগে অনেকের জরিমানা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা গোপনে ঢাকায় ল্যাংড়া আম নিয়ে যাচ্ছে। তাদের উপর নজরদারি বাড়লে ঢাকাতেও সময়ের আগে ল্যাংড়া আম পাওয়া যাবে না।’

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, ‘ভালো আম পেতে একটু অপেক্ষা করতে হবে।’

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা আমরা বেঁধে দিয়েছি। কিন্তু এর আগে যদি গাছে আম পেকে যায়। তাহলে তো চাষী সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। আর আমরাও চাইবো না চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হোক। হ্যাঁ, যদি একেবারে অপরিপক্ক অবস্থায় গাছ থেকে আম নামিয়ে রাসায়নিকদ্রব্য মিশিয়ে বাজারে আম বিক্রি করা হয় তবে তো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে আম গাছ থেকে নামানো হবে কিনা।’

ঢাকাসহ সারাদেশে পাঠানোর জন্য প্যাকেটজাত করে রাখা আম

ঢাকায় সময়ের আগে ল্যাংড়া আম কিভাবে পাওয়া যাচ্ছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরার আম বাজারে আগে উঠে। এরপর মেহেরপুরের। তারপর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম উঠে। এক্ষেত্রে ঢাকার বাজারে সাতক্ষীরার আম উঠতে পারে। তবে সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরের চেয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম সুস্বাদু বেশি।’

তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা ও চাষীরা যাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেজন্য আমরা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করছি।’

তিনি জানান, রাজশাহীতে আমের বাগান রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার আম এসেছে এক লাখ ২৬ হাজার ৪৮০ গাছে। এসব গাছ থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন।

২০১৮ সালের মধ্যে শতভাগ আম প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘সোর্স অব অরিজিন’ নিশ্চিতকরণ ও  আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘ব্র্যান্ডিং’র জন্য আম বাজারজাতের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ম্যাংগো ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গোপালভোগ ২৫ মে, হিমসাগর/ ক্ষিরসাপাত ২৮ মে, লক্ষণভোগ/লখনা ১ জুন, ল্যাংড়া ও বোম্বাই খিরসা ৫ জুন, ফজলি, সুরমা ফজলি ও আম্রপালি ১৫ জুন, আশ্বিনা ১ জুলাই থেকেই পাড়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।’

তবে কোনও বাগানে আগাম আম পাকা শুরু হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণেরও কথা বলা আছে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সূচিকে স্বাগত জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণাকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আম উৎপাদন হয়েছে তাতে এবার চাষিরা ভাল দাম পাবেন এবং লাভবান হবেন।’

/এনআই/এমএ/