স্থলবন্দর বেনাপোলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৬টি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টমস লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছে।
বাতিল হওয়া লাইসেন্সগুলো হচ্ছে, মোহাম্মদ গোলাম হায়দারের সত্ত্বাধিকারী মেসার্স রহমান অ্যান্ড সন্স, আব্দুস সামাদের মেসার্স আজিম এন্টারপ্রাইজ, হাদিউজ্জামানের মেসার্স রিমু এন্টারপ্রাইজ, জি এম মোস্তাফিজুর রহমানের মেসার্স নিয়ন এন্টারপ্রাইজ, ফারুক হোসেন উজ্জ্বলের এনেক্স ইন্টারন্যাশনাল ও শরিফুল ইসলামের মেসার্স রাফিন এন্টারপ্রাইজ।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে লাইসেন্স কর্তৃপক্ষের দেওয়া শর্ত ভঙ্গ, রাজস্ব ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, কাস্টমস ও বন্দরের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা হাত মিলিয়ে দুর্নীতি করছে। তাদের কারণে সরকার প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে আমদানি বাড়লেও বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয় বাড়ছে না।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চার বছর পর এবার ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বেনাপোল বন্দরে ৩৭৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিপরীতে ৩৮০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়।
এর আগে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ২০৩ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৪৫২ কোটি ৮৯ লাখ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ১৯৪ কোটি টাকা।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার (১) জাকির হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এসব সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর লাইসেন্সের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সঠিক নিয়মে সরকারের রাজস্ব আদায় করাসহ যে কোনও ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: ধসে যাওয়া রুমা -বান্দরবান সড়কে যান চলাচল শুরু