সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জালাল আহম্মেদ জানান, ‘হানিফের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এখানেই আপাতত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি হলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হবে।’
শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক দানি জানান, ২০০৫-১৪ সাল পর্যন্ত শাহাদত হোসেন শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা।’
আসমা বেগম বলেন, ‘শাহাদত হোসেন লোকজন দিয়ে হানিফকে সোমবার দিবাগত (৩১ জুলাই) রাত ২টার দিকে এস এস রোড থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে আমার রেলকলোনি মহল্লার বাড়ির তালা ভেঙে হানিফকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে ।পরে তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে শাহাদত ও তার লোকজন পালিয়ে যান। সকালে হানিফকে আমরা উদ্ধার করে পুলিশ সুপার ও সদর থানা পুলিশকে দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি।’
আসমা বেগম আরও বলেন, ‘গত ৭/৮ মাস আগে আমার এক নাতনির সঙ্গে শাহাদত হোসেন অশোভন আচরণ করেন। ওই ঘটনায় আমরা সদর থানায় অভিযোগ করেছি। শাহাদত সে সময় তার বেশ ক’জন শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টির আপোষ-মিমাংসা করেন। ওই মিমাংসার ঘটনায় শাহাদতের ১০/১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন। উল্লিখিত টাকার ক্ষতিপূরণ বাবদ আমার কাছে শাহাদত নগদ ৫ লাখ টাকা চান। আমার রেলকলোনি মহল্লার ঘরবাড়িসহ জমি লিখে দিতে বার বার আমাকে চাপ দেন। টাকা ফেরতসহ ঘরবাড়ি ও জমি লিখে দিতে আমি রাজি না হওয়ায় তিনি প্রায়ই ভয়ভীতি দেখান। পরবর্তীতে আমি রেলকলোনি মহল্লা থেকে পালিয়ে শহরের এস এস রোডে ভাড়া বাসায় উঠি।’
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শাহাদতের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত আছেন কিনা বা ট্রাক চালককে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ সত্য কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে ক’দফা পুলিশ পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগীরা এরই মধ্যে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে এসপি সাহেবকে মৌখিক অভিযোগ দিলেও থানায় লিখিত কোনও অভিযোগ দেয়নি।’
পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ মঙ্গলবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাক চালককে নিয়ে তার স্বজনরা প্রথমে থানায় এবং পরে আমার অফিসে আসলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। আগুনের ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, পুলিশ ক’দফা সেখানে গেছে। আগুনের ঘটনার অভিযোগের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তারপরেও যেহেতু একটি ঘটনা ঘটেছে, অবশ্যই পুলিশ তা দেখবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শহর আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ শাহাদত হোসেনের ফোনে মঙ্গলবার (১ আগস্ট) বিকালে বারবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের শাহাদত হোসেন জানিয়েছেন ‘তাকে ফাঁসানোর জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। আগেও তারা ষড়যন্ত্র করেছে। আবারও তারা শুরু করেছে।’
সদর থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বারেক বলেন, ‘২০১৪ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের রেলকলোনি মহল্লায় কাজিপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনকে মারপিট ও তার বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দু’টি মামলা হয়। ওই মামলায় শাহাদত গ্রেফতারও হন। পরবর্তীতে তিনি বাদীর সঙ্গে আপোষ-মিমাংসা করে নিয়েছেন। গত ৭/৮ মাস আগে সদর থানায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি ধর্ষণের মামলায় হয়। সেটিও তিনি আপোষ-মিমাংসা করে নিয়েছেন।’
/এনআই/এপিএইচ/