সাতক্ষীরায় সালিশের অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

মেয়ের আত্মহত্যায় কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ফুজলা খাতুনসাতক্ষীরায় প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে সালিশ ও জরিমানা ঘোষণার অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে রিমা খাতুন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী।

শনিবার (২৬ আগস্ট) ভোরে বাড়ির পাশে একটি আম গাছের ডালে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সে। 

আত্মহননকারী রিমা স্থানীয় মুজিবর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে  সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি জাকির হোসেনের মেয়ে।

রিমার মা ফজিলা খাতুন বলেন, ‘এক মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পাশের বাড়ির মহব্বত আলী রিমার ঘরে ঢোকে।তখন রিমা তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনা মহব্বতের বাড়িতে জানানো হলে সে ক্ষুব্ধ হয়। এরপর থেকে মহব্বত প্রতিশোধ নেওয়ার পাঁয়তারা করে।’

ফজিলা খাতুনা বলেন, ‘শুক্রবার রাতে রিমার প্রাইভেট শিক্ষক রেজাউল ইসলামকে বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া হয়। রাতে রেজাউল ইসলাম বাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়া করেন। এ সময় মহব্বত আলী বাইরে থেকে ঘরের দরজার শেকল লাগিয়ে দিয়ে গ্রামবাসীকে ডেকে আনে। সে প্রচার করে রিমা ও রেজাউল অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়েছে। পাড়ার লোকজন এসে রিমা ও রেজাউলকে ঘর থেকে বের করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় সেখানে উপস্থিত হন বল্লী ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ভাই বিল্লাল, হাফিজুল ইসলাম এবং অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মিজানুর রহমানসহ অনেকেই। তারা সালিশ বসিয়ে প্রাইভেট শিক্ষক রেজাউল ইসলামকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও রিমাকে শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন। সালিশ চলাকালে  রেজাউল গা ঢাকা দেন।’

শনিবার ভোরে রিমাকে দেখা যায় বাড়ির পাশে একটি আম গাছের ডালে নিজের ওড়নায় ঝুলতে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

সালিশের বিষয়ে জানতে চাইলে সেনা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট বল্লী গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন ‘রাতে আমাকে কয়েকজন লোক বাড়ি থেকে ডেকে আনে। ততক্ষণে সালিশ  হয়ে গেছে। তবে কোনও টাকা লেনদেনের কথা শুনিনি।’

রিমার মা জানান, সালিশ করে টাকা আদায় করা হবে এমন ঘোষণা দিয়েছিল বিল্লাল ও তার সহযোগীরা। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে তার মেয়ে আত্মহত্যা করে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ জানান, এঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দাখিল করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। মেয়েটির মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তারা ছাড় পাবে না। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি বিস্তারিত বলা যাবে।

আরও পড়ুন:

মিয়ানমারে নতুন করে ধরপাকড়, বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের স্রোত