রাঙামাটিতে ১৪০ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিদায়

ত্রাণ সহায়তা নিচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরারাঙামাটিতে গত ১৩ জুনের ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠেছিল পরিবারগুলো। আড়াই মাস পর সেই আশ্রয়কেন্দ্র থেকেও বিদায় নিতে হলো তাদের। এই দীর্ঘ সময়েও তাদের পুনর্বাসন করা হয়নি। সরকারি ফান্ড ফুরিয়ে আসায় আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যয় বহন করতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। নেই কোনও সরকারি নির্দেশনাও। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪০ পরিবারকে কিছু ত্রাণ সহায়তা দিয়ে বিদায় দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তাদের বিদায় দিলেও এই পরিবারগুলো এখন যাবে কোথায় তার কোনও উত্তর নেই কারও কাছে। আগে যেখানে তাদের বসতি ছিল, সেই পাহাড়েও আর ফিরে যাওয়ার উপায় নেই। পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। পাহাড় ধসে এই পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ফান্ড ফুরিয়ে আসা ও সরকার থেকে কোনও নির্দেশনা না আসায় বাধ্য হয়েই জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিদায় দিতে বাধ্য হয়েছে।

ত্রাণ সহায়তা নিচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবার প্রতি ২ বান ঢেউটিন, ছয় হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। এসময় আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রতি পরিবারকে এক হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুলের মান্নানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার। এতে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু সাহেদ চৌধুরী, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার।

পরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরবর্তী সময় সরকারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে। সবাই যার যার জায়গায় ফিরে যাচ্ছে কিন্তু আমরা তাদের অনুরোধ করেছি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতঘর নির্মাণ না করার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে নির্দেশনা না আসায় এখনও পুনর্বাসন কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।’