গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে তিন সাঁওতালকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ইউপি সদস্য শাহ আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই কর্মকর্তাদের দাবি, এসময় শাহ আলমকে ছিনিয়ে নিতে তার অনুসারীরা হামলা চালায়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রবিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শাহ আলম সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য।
আহতরা হলেন, এসআই মোজাম্মেল হক, এসআই প্রভাত, এএসআই শাহ জালাল ও কনস্টেবল বজলু রহমান। আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে এসএসআই শাহ জালালের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাত ১০টার দিকে পিবিআইয়ের একটি দল সাহেবগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে শাহ আলমকে গ্রেফতার করে। এসময় শাহ আলমের অনুসারীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পিবিআইয়ের চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
পিবিআই গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনার তদন্তে শাহ আলমের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার আরও অভিযোগ রয়েছে। গোপন খবরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, শাহ আলমকে গোবিন্দগঞ্জ থানা হাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ নভেম্বর সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে থমাস হেমব্রন বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০০-৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।