কাজীপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জসিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাইজবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত হোসেন সাকোওয়াতের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে রাস্তার পাশ থেকে সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে কাটা ১৮টি ইউক্যালিপ্টাস গাছের বেশকিছু খণ্ড উদ্ধার করেছে।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ছালাভরা-ঢেকুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের এলজিইডির অধিগ্রহণ করা জায়গায় ১৯৯৭ সালে রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি ইউক্যালিপ্টাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। সোমবার সেখান থেকে ১৮টি ইউক্যালিপ্টাস বিক্রির পর কাটা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সেগুলো ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা নাজমুল হামিদ রেজা ও এলজিইডি অফিসের প্রতিনিধি মিজানুর রহমানসহ থানা পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের বেশকিছু খণ্ড জব্দ করেন। পুলিশ জানিয়েছে এ বিষয়ে মামলার প্রস্ততি চলছে। কারা গাছ কেটে বিক্রি করছিল, তা জানানোরও চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে সরকারি গাছ কর্তন কারও জন্য কাম্য নয়। জব্দ গাছের খণ্ডগুলো উদ্ধারের পর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় মাইজবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন সাকোওয়াত আলম নামের একজন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করেন। পরে আলমের লোকজন গাছগুলো কেটেছে। 

অভিযোগের বিষয়ে শওকত হোসেন সাকোওয়াত বলেন, ছালাভরা বাজারে আওয়ামী লীগের একটি অফিস নির্মাণ ও একটি মসজিদে অর্থ সাহায্যের জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা ৬টি গাছ কেটেছে। বিষয়টি তারা আমাকেও জানিয়েছিল। এখন ধরা পড়ার পর নিজেরা বাঁচার জন্য তারা আমার নাম বলছে। আমি এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িত নই।

কাজিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তছলিম উদ্দিন জানান, গাছের খণ্ডগুলো উদ্ধারের পর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এলজিইডি অফিসের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।