ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা: কুষ্টিয়ায় ১১ দিনে ৫২ জেলের কারাদণ্ড

ইলিশ সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা

সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ইলিশ শিকারের অপরাধে ১ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোববর পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় মোট ৫২ জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১১ অক্টোবর) জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এসময় ৪১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২৯৩টি ঘাট, ৩০৩টি মাছের আড়ত ও ৪২০ বার মাছের বাজার পরিদর্শন করা হয়। মাছ শিকারের অপরাধে এখন পর্যন্ত ৪৬টি মামলা হয়েছে বলেও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে।

আরও জানা যায়, গত ১১দিনে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের দায়ে জেলেদের কাছ থেকে চার লাখ ৭২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ও উদ্ধার করা হয় সাত লাখ ৯৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল। জব্দকৃত জালের মূল্য প্রায় এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়াও এ পর্যন্ত ১১টি মাছ ধরার ট্রলার ও ৪২৬ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১১ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরার অপরাধে পাঁচ জেলেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে চার জনকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও একজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উপজেলার পদ্মা নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল  মারুফ।

তিনি বলেন, ‘বুধবার জব্দকৃত ১২শ মিটার কারেন্ট জালে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৪০ কেজি মাছ ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রদান করা হয়।’

অভিযান অব্যাহত থাকার পরেও জেলেদের মাছ শিকারের ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা এসব ইলিশ শিকারিদের ধরতে পারছি না। আমাদের সঙ্গে কাজ করলে নৌকার মালিকদের পরে হেনস্তা করেন জেলেরা। এজন্য কেউ সহজে আমাদের সহযোগিতা করতে চান না। এছাড়া আমাদের নৌকার গতিও কম। তাই কৌশলে বিভিন্ন দিক দিয়ে ঘেরাও করে জেলেদের আমরা সবসময় ধরতে পারি না।’

জেলেদের চাল বরাদ্দের ব্যাপারে তিনি জানান, জেলেদের যে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয় সেটি উপকূলীয় এলাকায়। কুষ্টিয়ার জন্য চাল বরাদ্দ নেই। তবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চাল বরাদ্দের জন্য সুপারিশ করে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। এটি যদি অনুমোদন হয়ে আসে, তাহলে এসব জায়গায় জেলেদের চাল দিতে পারবো।