রায়গঞ্জে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫

সিরাজগঞ্জসিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এসময় বাড়িঘর ও চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের চকনূর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, সালিশী বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

পাঙ্গাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহা আলম জানান, আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে ১২ অক্টোবর রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম হায়দার শোভনের সমর্থকদের সঙ্গে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল রায়হান জয়ের বিরোধ হয়। এ বিরোধ নিরসনে সকালে চকনুর বাজার এলাকায় একটি সালিশী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। উভয়ই লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে চান্দাইকোনা এলাকার থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহাগ ব্যবসায়িক কারণে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউপির চকনূর বাজারে গেলে পূর্বসূত্র ধরে পাঙ্গাসী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ স্মপাদক রাশেদ রায়হান জয়সহ অন্যান্যরা সোহাগকে আটকে রেখে মারধর করেন। খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম হোসেন শোভন সরকারসহ ১০-১৫ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয় এবং দোকানঘরসহ ৪-৫টি বাড়ি এবং চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়।

আহতরা হলেন চকনূর গ্রামের সোনাউল্লাহ মিয়ার ছেলে মাহমুদুল ইসলাম (২৮), হারান আলীর ছেলে আব্দুস ছালাম(৩৫), মৃত বরকত আলীর ছেলে সামছুল ইসলাম (৪৮), হক্কার সেখের ছেলে সাহেব আলী(৩০),  জাগর আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ কর্মী জাকারিয়া, সোহাগ, ফিরোজ, হৃদয়, রাজু, খোকন।

গুরুতর আহতাবস্থায় জাকারিয়াকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে এবং মাহমুদুলকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যান্যদের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম হোসেন শোভন সরকার বলেন, ‘ঘটনা অবহিত হয়ে নিরসন করতে গেলে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির শিকার হই।’

জেলা ছাত্রলীগ সদস্য ও পাঙ্গাশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রায়হান জয় বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম হোসেন শোভনের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার বাহিনী এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমি ও আমার চাচাসহ পাঁচ জন আহত হই ।’