গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিশনাল ডিসি) মাহমুদ হাসান জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কারখানার ভেতরেই আলোচনা হয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ২৫জনের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনার সময় আইনানুগভাবে শ্রমিকদের সব দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত শ্রমিক সুমনকে শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে দাবি পূরণে মালিক পক্ষের এক বা দুই দিন সময় লাগতে পারে। দাবি পূরণের পর কারখানা খোলা হবে।
শ্রমিকরা জানান, কারখানার সুইং অপারেটর সুমন মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) একদিন বিনা ছুটিতে অনুপস্থিতির পর বুধবার (১১ অক্টোবর) কাজে যোগ দিতে কারখানায় যান। তার ন্যায্য পাওনা না দিয়ে কর্তৃপক্ষ ওইদিন তাকে বরখাস্ত করে। পরে কর্তৃপক্ষের ইশারায় তাকে বহিরাগত লোক দিয়ে মারধরও করা হয়। শ্রমিকদের মধ্যে ওই রাতেই এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সুমনের অপর সহকর্মী আব্দুর রহমান বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকালে কারখানায় এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। পরে তাদের দুই জনকে কারখানা কর্তৃপক্ষ ভাড়াটে লোকজন দিয়ে কারখানা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। এদিন থেকে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে। কারখানার বাইরেও কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাড়াটে লোকজন কোনোরকম আন্দোলন প্রতিবাদ না করতে শ্রমিকদের হুমকি দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবারও কারখানায় উৎপাদনে না গিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে শ্রমিকেরা। রবিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে এসে কারখানার মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখতে পায়। একইসঙ্গে কারখানার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন দেখে ও নোটিশের খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা ১১টা থেকে শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাড়া করা লোকজন শ্রমিকদের ওপর হামলা করে। এসময় কারখানা শ্রমিক জরিনা (২৭), রিনা (২৯), নাসিমাসহ (৩৩) বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদেরকে স্থানীয় বাঘের বাজারের কাজী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কর্তৃপক্ষ কারখানার প্রধান ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে। রবিবার সকালে শ্রমিকেরা বন্ধের নোটিশ দেখে কারখানার ফটকের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পোশাক কারখানাটি লিথি শিল্প গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।