শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের দূর্গাপুরে এক নারী সমাবেশে এসব কথা বলেন। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সদর দাক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার, বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুস সেলিম ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবদুর রহিম।
সমাবেশে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে নারী-পুরুষকে পাশাপাশি কাজ করতে হবে। নারীরা পিছিয়ে থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা উন্নয়নের চালিকাশক্তি। আমাদের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বর্তমান সরকার অনেক বেশি নারীবান্ধব। এই সরকার নারীদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে। তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী অসংখ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতাসহ অনেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নারী। রাজনীতিতেও এখন নারীরা পিছিয়ে নেই। আপনাদেরও রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়লে চলবে না। রাজনীতি করতে হবে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন মানুষের জীবনে যাবতীয় ভালো কাজই রাজনীতি। এই রাজনীতিতে অংশ নিয়ে উন্নয়নের জোয়ারে সামিল হতে হবে।’
৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘আজ ৩ নভেম্বর জাতির জীবনে এক কলঙ্কিত দিন। ঘাতকদের উদ্দেশ্য ছিল দেশে অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের উত্থানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের চেতনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ মুছে ফেলা। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। ষড়যন্ত্রকারীরা রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী আমাদের দেশকে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির আবর্তে নিক্ষেপ করতে চেয়েছিল। কিন্তু অন্ধকারের সেই শক্তি সফল হতে পারেনি। সংগ্রামী বাঙালি জাতি তা ব্যর্থ করে দিয়েছে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর স্বাধীনতার বিরোধীরা বঙ্গবন্ধুর চার ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভোবে হত্যা করে। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাতের কামনা করছি।’