দুই কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা: ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

খুলনাখুলনার দাকোপ উপজেলায় বখাটেদের উৎপাতে এক সপ্তাহে সংখ্যালঘু দুই কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন উভয় পরিবার। আত্মহত্যা করা ছাত্রীরা হলেন- লাউডোব সরকারি এলবিকে মহিলা কলেজের ছাত্রী জয়ী মণ্ডল এবং বাজুয়া এসএন কলেজের ছাত্রী বন্যা রায়। উভয় ঘটনায় ছাত্রলীগের দুই নেতাসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ছাত্রলীগের এক নেতাসহ দুই জনকে  ইতোমধ্যে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

নিহত কলেজছাত্রী জয়ী মণ্ডলের ভাই দেবাঞ্জন মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ইনজামাম আমার বোনকে পাশবিক নির্যাতন করে আত্মহত্যায় বাধ্য করেছে। আমরা এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চাই এবং অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জনাচ্ছি।’

নিহত বন্যা রায়ের পিতা অনিমেশ রায় বলেন, ‘আত্মহত্যার আগে মেয়ে আমাদের কিছুই জানায়নি। তবে তার লিখে যাওয়া একটি চিরকুটের সূত্র ধরে মোবাইল সেট থেকেই উত্যাক্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রমাণ নিয়েই আমরা ন্যায়বিচারের জন্য লড়ে যাবো। কোনও ভয়-ভীতি বা চাপের কাছে মাথানত করবো না।’

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর রাতে কলেজ হোস্টেলের কক্ষ থেকে কলেজছাত্রী জয়ী মণ্ডলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ৭ নভেম্বর জয়ীর পিতা কুমারেশ মণ্ডল বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায বাজুয়া এসএন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইনজামামকে আসামি করা হয়। গত ১২ নভেম্বর ইনজামাম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

অন্যদিকে, গত ২৮ অক্টোবর আত্মহত্যা করেন বাজুয়া এসএন কলেজছাত্রী বন্যা রায়। এ ঘটনায় ৯ নভেম্বর দাকোপ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বর্ণদীপ জোয়াদ্দারসহ দু’জনকে আসামি করে মামলা করেন বন্যার পিতা অনিমেষ রায়। পরবর্তীতে মামলার আসামি অভিজিত অভিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।

এ বিষয়ে দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বন্যার আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আসামি অভিজিত রিমান্ডে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। যা পরবর্তী কার্যক্রমে সহায়ক হবে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুস সাকিব বলেন, ‘এ মামলার অন্য আসামি স্বর্ণদীপকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় খুলনা টাইটানস