২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন উম্মে সালমা তানজিয়া। এরপর থেকেই জনসেবাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করেছে চলেছেন এই তিনি।
এর আগেও উম্মে সালমা তানজিয়া ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক-২০১৭ হিসেবে স্বীকৃতি পান। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য গত সেপ্টেম্বরে তাকে ওই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।
জেলা প্রশাসক হিসেবে নিজের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মানুষের মধ্যে ধারণা হয়েছে এই সব অফিসে টাকা ছাড়া কিছু হয় না। দেখা যাচ্ছে জেলা প্রশাসকরা টাকা নেন না কিন্তু মানুষ দালালদের টাকা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ সমস্যায় পড়ে আমার কাছে আসে না। বাইরে থেকে ভুল তথ্য তারা নিয়ে চলে যায়। ফলে অফিসের ইমেজ নষ্ট হয়। মানুষের এই মনোভাব দূর করার জন্য কাজ করছি। জনসেবার বিষয়ে ফেসবুক পেজ ও নোটিশ বোর্ডে সব বলেছি। এই অফিস শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত আমি বলব না, তবে মুক্ত রাখার জন্য কাজ করছি।’
কাজের ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পেয়েছেন উল্লেখ করে এই জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমার এই সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি আমার অ্যাডমিনের টিমের। পুলিশ সুপার, সমাজসেবা দফতর, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সর্বোপরি ফরিদপুরের জনগণ সহায়তা করেছেন।’ এ স্বীকৃতিপ্রাপ্তিতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মিডিয়া আমার কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে প্রচার করে আমার টিমকে উৎসাহিত করেছে। আমাদের চলার পথ দেখিয়েছে।’
ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতেন পাইলট হওয়ার। কিন্তু ফ্লাইং ক্লাবে ভর্তি হওয়ার মতো বিপুল অর্থ ছিল না পরিবারের। নিজের বাবা সম্পর্কে উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ‘ছাত্রজীবনে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা পেয়েছি বাবার কাছ থেকে। তার উৎসাহেই আজ এতদূর আসতে পেরেছি। পেশাগত জীবনে বাবা খাদ্য বিভাগে কাজ করলেও স্বাধীনতার পর ব্যবসা করে সৎভাবে আমাদের মানুষ করেছেন। আজ বেঁচে থাকলে তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতেন।’