যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

পিটিয়ে হত্যাকুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে সুফিয়া বেগম (১৯) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।  গত বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, নিহত সুফিয়া নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সোহরাব আলীর মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম নাগেশ্বরী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

নিহত গৃহবধূ সুফিয়া বেগমের ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুফিয়ার সঙ্গে উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সোনার খামার গ্রামের মরতুজ আলীর ছেলে আনোয়ারের বিয়ে হয়। প্রায়ই সুফিয়া বেগমকে তার স্বামী যৌতুকের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো। সুফিয়া গর্ভবতী ছিল। গত তিন চারদিন আগেও সুফিয়ার স্বামী আনোয়ার হোসেন সুফিয়াকে মারপিট করে। এতে গুরুতর আহত সুফিয়াকে প্রথমে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।

নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত সুফিয়ার বাম পা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দেখে মনে হয়েছে এটা অস্বাভাবিক মৃত্যু। তার স্বামী আনোয়ার হোসেন বিভিন্নভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির-উল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। লাশের শরীরে আমি কোনও আঘাতের চিহ্ন পাইনি। তবে নিহত গৃহবধূর পরিবারের লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ডাকাতি ছেড়ে রিকশা চালান আইয়ুব