খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। ৩১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও ১০টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর লবিং শুরু করেছেন তারা। ইতোমধ্যেই অনেকে নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি মনোনয়ন পেতে দলের কাছেও আবেদন করেছেন। আওয়ামী লীগ মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠাবে। বিএনপিও মেয়র প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে। তবে কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য স্থানীয়ভাবে বোর্ড গঠন করেছে। এ বোর্ডের মাধ্যমেই কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি।
মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নগর বিএনপি দলের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেছে। এ প্রস্তাব কেন্দ্রকে জানানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই আসবে। কাউন্সিলরদের তালিকা দলের নগর শাখার মনোনয়ন বোর্ড দেবে। নগরীর ৩১টি সাধারণ আসনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১০টি সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে ৯ এপ্রিল। আগ্রহী প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। শনিবার থেকে তিন দিনব্যাপী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে দলীয় কার্যালয়ে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি জানান, নগর আওয়ামী লীগের প্রথম পছন্দ তালুকদার আব্দুল খালেক। বিকল্প হিসেবে আরও চার প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে। বিকল্প চার প্রার্থী হলেন অ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, শেখ সৈয়দ আলী, অ্যাড. সরদার আনিছুর রহমান পপলু ও সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মোট ১৯০ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। আগামী ৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড এর মধ্যে থেকে ৩১ জনকে কাউন্সিলর ও ১০ জনকে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।
৬ এপ্রিল ঢাকা থেকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করতে হবে। মনোনয়নপত্র পূরণ করে তা কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে জমা দিতে হবে। আগামী ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। মনোনয়ন বোর্ডও আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে। একইদিন চূড়ান্তভাবে কেসিসি’র মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলীয় আলোচনায় রয়েছেন নগরীর ১ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শাহাদাৎ হোসেন মিনা, ২ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম জাহিদ হাসান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আব্দুস সালাম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আ. রউফ মোড়ল, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আলী মাস্টার ও হারুন উর রশীদ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মিজানুর রহমান মিজা তরফদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড শাখার আহবায়ক শেখ সেলিম আহমেদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সাহিদুর রহমান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এম ডি মাহফুজুর রহমান লিটন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী তালাত হোসেন কাউট, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে মুন্সী আব্দুল ওয়াদুদ, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম খুরশিদ আহমেদ টোনা, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ মোশাররাফ, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ আবিদ উল্লাহ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুর রশীদ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. পারভেজ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোতালেব মিয়া, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএম গোলাম কিবরিয়া রতন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের রাজু আহমেদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আলী আকবর, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে জেড এ মাহমুদ ডন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে মহসিনুর রহমান আফরোজ, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ফকির সাইফুল ইসলাম, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে এসএম মোজাফফর রশিদী রেজা এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে শরিফুল ইসলাম মুন্না।
অন্যদিকে ওয়ার্ডগুলোতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলীয় আলোচনায় রয়েছেন নগরের ১ নং ওয়ার্ডে কালাম শিকদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গাউসুল শেখ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল আনাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন তোতন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্স, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সুলতান মাহমুদ পিন্টু, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মাদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নগর বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ জাহিদুল ইসলাম, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. ফারুক হিল্টন,১১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির মো. ইউনুস আলী সরদার, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ ইমতিয়াজ আলম বাবু,১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর এস,এম,আবুল কালাম আজাদ,১৫ নম্বর ওয়ার্ডে হাবিব বিশ্বাস, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মো. হাফিজুর রহমান,১৯ নম্বর ওয়ার্ডে আশফাকুর রহমান কাকন,২০ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর শেখ গাউসুল আজম, ২১ নং ওয়ার্ডে নাজির উদ্দিন নান্নু, ২২ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মো. মাহবুব কায়সার,২৩ নম্বর ওয়ার্ডে জামাল উদ্দিল মোড়ল ও যুবদল নেতা সাব্বির হোসেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শমসের আলী মিন্টু, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে আনিসুর রহমান আরজু,২৬ নং ওয়ার্ডে বিএনপির জামাল উদ্দিন,২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির কে এম হুমাযুন কবীর, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ওয়াহিদুর রহমান দিপু,২৯ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন বনি,৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আমান উল্লাহ আমান,এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে আফতাব উদ্দিন মাস্টার।
এছাড়াও স্বতন্ত্র হিসেবে গত নির্বাচনে জয়ী হওয়া ৭ কাউন্সিলর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. কবির হোসেন কবু মোল্লা, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মহিদুল ইসলাম,১২ নম্বর ওয়ার্ডের শফিকুল ইসলাম,১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাস, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না,২৬ নং ওয়ার্ডের গোলাম মাওলা শানু এবারও নির্বাচন করবেন এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে প্রধান দুটি দল থেকে এদের যে কেউ দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন এমন সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তাদের ঘনিষ্ঠ নেতারা।
এছাড়াও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গত নির্বাচনে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন জামায়াত থেকে নির্বাচিত শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। তিনিও আবার নির্বাচন করছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। একইসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি বলেনও জানা গেছে।
এর বাইরেও ৩১টি ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনসহ একাধিক দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, কেসিসির ৩১ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৬ জন ও মহিলা ২লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।