চট্টগ্রামে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহতদের দুই জনের স্ত্রীকে স্থায়ী এবং একজনের স্ত্রীকে অস্থায়ী চাকরি দিয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।
শনিবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সিভাসু উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৩৯তম অধিবেশনে দুই জনের চাকরি স্থায়ী করা হয় ও একজনকে অস্থায়ী চাকুরি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক খলিলুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
খলিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত কৃষ্ণপদ দাশের স্ত্রী চন্দনা দাশের অফিস সহায়ক ও ঝন্টু দাশের স্ত্রী লাকী দাশের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া, সত্যব্রত ভট্টাচার্যের স্ত্রী প্রিয়াংকা শর্মাকে ল্যাব টেকনিশিয়ান পদে অস্থায়ীভাবে চাকরি দেওয়া হয়।’
তিনি আরও জানান, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর দুই শিশু সন্তানসহ অসহায় চন্দনা দাশের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নজরে আসে। এতে ওই দিনই তিনি চন্দনাকে অফিস সহায়ক পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেন। এর দুই দিন পর ঝন্টু দাশের স্ত্রী লাকী দাশকেও অস্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়।
তিনি জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক চন্দনা ও লাকী দাশের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি আজকের সিন্ডিকেট অধিবেশনে উপস্থাপন করা হয়, যা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। প্রিয়াংকা শর্মার চাকরি পরবর্তী সময়ে স্থায়ী করা হবে।
সিন্ডিকেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নুরল আনোয়ার, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহা-পরিচালক ডা. মো. আইনুল হক, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম. নুরুল আবছার খান, ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. আ. হালিম, ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. এ. কে. এম. সাইফুদ্দীন, প্যাথলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মাসুদুজ্জামান, ভেটেরিনারি ক্লিনিকস পরিচালক প্রফেসর ড. ভজন চন্দ্র দাস, রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেটের সদস্য সচিব মীর্জা ফারুক ইমাম।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর রীমা কমিউনিটি সেন্টারে মহিউদ্দিনের কুলখানিতে অংশ নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ জন মারা যান। ওইদিন মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে নগরীর ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের আয়োজন করা হয়েছিল। এর মধ্যে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আয়োজন করা হয়। এ ঘটনায় আরও ১০জন গুরুতর আহত হন।