পাঁচ বছর আগে দোকানে পান আনতে গিয়ে হারিয়ে যায় প্রতিবন্ধী জামান ভূঁইয়া। তার ছবি ফেসবুকে দেখতে পেয়ে সম্প্রতি তাকে ফিরে পেয়েছেন মা ফাতেমা বেগম।
ফাতেমা বেগম ও তার ছেলে জামান ভূঁইয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার লক্ষিবরদী গ্রামে।
ফাতেমা বেগম জানান, পাঁচ বছর আগে দোকান থেকে পান আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি তার ছেলে জামান। চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার বড় জামান মানসিক প্রতিবন্ধী। হারিয়ে যাওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ফাতেমা বেগম বলেন, ‘জামানকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে অনেক কেঁদেছি। আর ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রতিদিন নামাজ পড়ে দোয়া করেছি।’
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি। কত যে খুশি, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’
জামানের বাড়ি ফেরার পেছনে কাজ করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারী আব্দুল বারী বাবলু। তিনি বলেন, ‘একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকে পাঁচ বছর পর তার মায়ের বুকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পেরে আমি আনন্দিত।’
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে আব্দুল বারী বাবলু বলেন, ‘নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরবাট খাসের হাটে যারা আসা-যাওয়া করেন, কম-বেশী সবাই এই যুবককে (জামান ভূঁইয়া) চেনেন। তিনি খুব শান্ত স্বভাবের। যে যাই করতে বলে তিনি তাই করেন। সবাই তাকে জামাল বলেই জানতেন। গত ৫ রমজান বন্ধু যোবায়েরসহ ইফতার শেষে বাজারের একটি দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এসময় এই যুবক বিড়বিড় করে কি যেন বলছিল। আমি তাকে ডেকে এনে পাশে বসাই এবং তার সঙ্গে কথা বলতে থাকি। ’
একটু দম নিয়ে আব্দুল বারী বাবলু বলেন, ‘এক পর্যায়ে তিনি (জামান) আমাকে বলেন, কাশু চেয়ারম্যান আমাকে কাপড় দিচ্ছে না। তার এ কথার সূত্র ধরে ফেসবুকে কাশু চেয়ারম্যান লিখে সার্চ করে একটি দৈনিক পত্রিকার সংবাদ পাই। যে সংবাদটি ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে উপজেলার কাশু চেয়ারম্যানের গ্রেফতার নিয়ে।’
‘এই সূত্র ধরে আড়াইহাজার এলাকার শাহীনুর আড়াইহাজারী নামের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ফেসবুক আইডিতে জামানের ছবি পাঠাই। শহীনুর সেই ছবি তার ফেসবুক ওয়ালে আপলোড করে। সেই ছবি দেখে হিমেল নামে একজন কমেন্ট করে জানায়, সে জামানকে চেনে। তারপর হিমেল রাতেই ওই বাড়িতে খবর পাঠায়।’
আব্দুল বারী বাবলু বলেন, ‘এরপর ছেলেকে নিতে ছুটে আসেন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা ও তার ভাগনে মানিক শিকদার ও আত্মীয় আল আমিন। জামানের মা এসেছেন শুনে বাজারে জড়ো হন স্থানীয়রা। ভালোবাসা দিয়ে বিদায় দেন জামানকে।’
হিমেল জানান, তিনি ফাতেমা বেগমের বাড়িতে ছুটে যান এবং তাকে ফেসবুকের ওই ছবি দেখান। এরপর ফাতেমা বেগম তার ভাগনে মানিক শিকদার ও আত্মীয় আল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে সুবর্ণচরের চরবাট খাসের হাটে যান এবং আজ রবিবার (২৭ মে) জামানকে নিয়ে লক্ষিবরদী গ্রামে ফেরেন।