বগুড়া-৫ আসনের এমপি ও তার পরিবারের সম্পদের তদন্ত শুরু করছে দুদক

 দুদক

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, স্ত্রী ও দুই সন্তানের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তদন্ত শুরু করছে দুদক। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের জায়গা, জমি, ফ্লাট ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত রেকর্ডের ছায়ালিপি চেয়ে বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম প্রামাণিক ওইসব তথ্য চেয়ে ১২ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারকে চিঠি ইস্যু করেছেন। ৩১ মে বৃহস্পতিবার সাব-রেজিস্ট্রাররা চিঠিগুলো পেয়েছেন।

এদিকে এমপি ও তার পরিবারের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তদন্ত শুরু হওয়ায় অভিযোগকারীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তারা এ ব্যাপারে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

জানা গেছে, বগুড়া-৫ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ জনগণের পক্ষে গত ২০১৭ সালের ৭ জুলাই দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এমপি হাবিবর রহমান, তার ছেলে আসিফ ইকবাল সনি প্রমুখের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, সামাজিক বনায়নসহ বিভিন্নখাতে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম গত ১৯ এপ্রিল বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেন।

চিঠিতে (স্মারক নং-দুদক/১৭৩-২০০২ (গ)/টা:ফো:-৪/১৩৬৮৪) বলা হয়েছে, সাবেক ডিসি, ডিএমপি বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন। তাই সংসদ সদস্য, তার স্ত্রী খাদিজা হাবিব, ছেলে আসিফ ইকবাল সনি ও মেয়ে ফারহানা দিবার নামে জায়গা, জমি ও ফ্লাট ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রের ছায়ালিপি ২৫ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহে অনুরোধ করা হয়।

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই।

বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম প্রামাণিক জানান, এক সপ্তাহ আগে দুদকের উপ-সহকারি পরিচালকের পাঠানো চিঠি পেয়েছেন। এরপর তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১২ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রাকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে ওই সংক্রান্ত কোনও তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত পাঠানো হবে।

বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার মশিউল ইসলাম জানান, জেলা রেজিস্ট্রারের পাঠানো চিঠি ৩১ মে বৃহস্পতিবার স্বাক্ষর করেছেন। সংশ্লিষ্টরা ওইসব তথ্য বের করতে কাজ শুরু করেছে।

বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের একান্ত সচিব কোরবান আলী মিলন জানান, তারা ৩০ মে বুধবার দুদকের চিঠি পেয়েছেন। দুদক এমপি সাহেবের দাখিল করা আয়কর ফাইল যাচাই করছে। ভোটের আগে এমন হয়েই থাকে, আর এতে তাদের কোন সমস্যা নেই।