জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের মো. শাহিন মিয়া জানান জেলেদের এমন দুর্দশার কথা। তিনি বলেন, বাড়ি সামনের হাওরেও জাল ফেলা যায় না। জাল ফেললেই ইজারাদারের নিয়োজিত পাহারাদারের জাল-নৌকা নিয়ে চলে যায়। এ মৎস্যজীবী বলেন, ‘যারা প্রকৃত মৎস্যজীবী তারা অর্থের অভাবে জলমহাল ইজারা আনতে পারি না। তাই বড় বড় মহাজনরা সমিতিতে অর্থলগ্নি করে। কাগজপত্রে জলমহালের মালিক মৎস্যজীবীরা থাকলেও তারা কোনও সুফল পায় না। লাভ চলে যায় অর্থলগ্নিকারী প্রভাবশালীদের পকেটে। তারা আমাদের নামে জলমহাল ইজারা আনেন। পরে নিরীহ জেলেদের হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে তারা বছরের পর বছর জলমহাল ভোগ করেন।’ ফেনারবাঁক গ্রামের মৎস্যজীবী মো. আক্তার হোসেনও বললেন একই ধরনের কথা।
মানিগাঁও গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিলের আকার আয়তন ও উৎপাদন ভেদে ডাক ওঠে সর্বনিম্ন কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত। এত টাকা বিনিয়োগ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা জলমহাল ইজারা আনতে পারে না। তাই তারা এলাকার প্রভাবশালীদের কাছে নিজেদের ন্যায্য অধিকার বিকিয়ে দেয় সামান্য টাকার বিনিময়ে।
শামছুল ইসলাম খোকন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বিলের ইজারাদাররা খুব শক্তিশালী ও প্রভাবশালী। তাদের বিত্তবৈভব ও প্রভাবের কারণে সারাধণ জেলেরা হাওরে মাছ ধরতে সাহস পায় না। একটি বিলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শুষ্ক মৌসুমে পাহারাদার কম থাকলেও বর্ষায় দ্বিগুণ হয়। তারা দিনে রাতে দ্রুতগামী নৌকায় চড়ে হাওরে খবরদারি করে বেড়ায়। তাই সাধারণ জেলেরা হাওরে মাছ ধরার কোনও সুযোগ পায় না। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের কাছে মৎস্যজীবীরা হাওর ইজারার জন্য আবেদন করেন। তাদের আমরা হাওর ইজারা দেই। আজ পর্যন্ত কোনও মৎস্যজীবী কোনও অভিযোগ করেননি যে তারা কারও কাছে জিম্মি হয়ে হাওরে মাছ আহরণ করতে পারছেন না। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনও অভিযোগ এলে আমরা বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বসহ বিবেচনা করবো। কোনও অভিযোগ এলে তদন্ত করে সমিতিতে কোনও অমৎস্যজীবী পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ইজারাও বাতিল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘জেলেদের অর্থের ঘাটতি থাকলে তারা সমবায় ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিতে পারেন।’ হাওরে জেলেদের মাছ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার যে জলাশয় বা হাওর যেটা ইজারা দেয় তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সীমানা চিহ্নিত করা থাকে। সীমানা চিহ্নিত করে দিয়েই ইজারা দেওয়া হয়। গতবার হাওর এলাকার মানুষ অভাবে ছিলেন, তখন হাওরে ইজারাকৃত জলমহালের বাইরে মৎস্যজীবীরা মাছ ধরেছেন। এবারও তাই হবে। যদি কেউ ইজারা দেওয়া জলাশয়ের বাইরে মাছ ধরতে গিয়ে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হন তাহলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’