প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আন্দোলনের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) রসায়ন বিভাগের উইকেন্ড কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। রসায়ন বিভাগের উইকেন্ড কোর্সের তত্ত্ববধায়ক অধ্যাপক কৌশিক সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় রসায়ন বিভাগের উইকেন্ড কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উইকেন্ড কোর্স বন্ধে পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত রসায়ন বিভাগের সামনে অবস্থান নেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। এসময় বিভাগে কোনও ভর্তিচ্ছুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
বেলা সাড়ে ১১টায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘রসায়ন বিভাগের উইকেন্ড কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা আবার নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে যেসব বিভাগের উইকেন্ড কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।’
এর আগে গত ২ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘উইকেন্ড মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন কেমিস্ট্রি’ প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে বিভাগটি। পরে ৫ আগস্ট উইকেন্ড কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত বাতিল, সেশনজট নিরসন, দ্রুত ফল প্রকাশসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগে ছয় মাস থেকে একবছরের সেশনজট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে উইকেন্ড কোর্স চালু হলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এমন আশঙ্কা থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন তারা।
আন্দোলনের মুখে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিভাগটির শিক্ষকেরা। কয়েক দফা আলোচনার পরও কোর্স চালু রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। পরে গত ১১ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রসায়ন বিভাগের উইকেন্ড কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা প্রতিহতের ঘোষণা দেয় প্রগতিশীল ছাত্রজোট।
রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. নূরুল আবছার বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সময়-সুযোগ বুঝে পরবর্তীতে পরীক্ষা নেওয়া হবে ভর্তিচ্ছুদের।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগে উইকেন্ড কোর্স চালু আছে। তাই রসায়ন বিভাগ অনুমতি চা্ইলে তা উপেক্ষা করার উপায় ছিল না। খুব সম্ভবত বিভাগটি নিজেরাই আপাতত প্রাইভেট প্রোগ্রাম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তিনি আর বলেন, ‘প্রথম যখন প্রাইভেট প্রোগ্রাম চালু হয় তখন কয়েকজন শিক্ষক এর বিরোধিতা করেছিলাম। সংখ্যায় কম ছিলাম বলে ঠেকানো যায়নি। সেসময় ছাত্রদেরও জোরালো ভূমিকা ছিল না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড হওয়া উচিত না। এটি বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।’