নিহত শামীম খান চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার পাঁচঘড়িয়া গ্রামের মাহবুব খানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম খান দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। চান্দিনার ছাতাড্ডা গ্রামের জিনের বাদশা খ্যাত আবুল কালাম নামে একজন কবিরাজ ক্যান্সারসহ অনেক দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা করান এমন সংবাদ পেয়ে শামীম চিকিৎসা নিতে যান ওই কবিরাজের কাছে। সেখানে যাওয়ার পর কবিরাজ শামীমকে ১০৭টি গোলাপ জল ও আটটি গামছা আনার জন্য বলেন। কবিরাজের কথামতো সেগুলো আনেন রোগী শামীম। এসময় কবিরাজ আবুল কালাম রোগী শামীমকে সবগুলো গোলাপ জল খেতে বলেন। কবিরাজের কথামতো রোগী ৬০টি গোলাপ জল খাওয়ার পর আর খেতে পারছিলেন না। এসময় কবিরাজ সবগুলো গোলাপজল খেতে রোগী শামীমকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে রোগী শামীম অচেতন হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শামীমের মৃত্যুর পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এসময় ভণ্ড কবিরাজ আবুল কালামকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। রাত ৯টায় চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এদিকে ভণ্ড কবিরাজ আবুল কালামকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। আবুল কামাল ছাতাড্ডা গ্রামের আব্দুল মমিনের ছেলে।
এ ব্যপারে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শামছুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভণ্ড কবিরাজ ও জিনের বাদশাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।