সচেতনতার অভাবে জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করছেন না রাজশাহীবাসী

zebra-crossing

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে নানান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পদক্ষেপের অংশ হিসেবে রাজশাহী নগরীতে গতিরোধকসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে জেব্রাক্রসিংয়ে করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। কিন্তু সচেতনতার অভাবে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩৫টি পয়েন্টে তৈরি জেব্রাক্রসিংয়ের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। যানবাহনের চালক ও পথচারীদের সচেতনতার অভাবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এতে করে প্রত্যেক দিনেই নগরীতে ছোট-খাট দুর্ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সম্প্রতি রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জেব্রাক্রসিংয়ের সাদা রং ইতোমধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে। অথচ জেব্রাক্রসিং চিহ্নিত করা দুই সপ্তাহও হয়নি। এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, আমার জানা মতে ৫ বছরে জেব্রাক্রসিংয়ের রং মুছে যাবে না। তবে যদি কোনো পয়েন্টে উঠে যায়। তাহলে সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।

এদিকে জেব্রাক্রসিং সম্পর্কে রাজশাহীর নগরীর পথচারী ও যানবাহন চালকদের ভালোভাবে ধারণা নেই। এ কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। নগরীর কলেজিয়েট স্কুলের সামনে দায়িত্বপালনকালে ট্রাফিক কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বলেন, জেব্রাক্রসিংয়ের সতর্কতা সম্পর্কে পথচারীদের বললেও শোনে না। যখন আন্দোলন হয়, তখন সবাই সতর্ক হয়।zebra-crossing1

শিক্ষার্থীদের জেব্রাক্রসিং সম্পর্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অবগত করা হয় কিনা। এমন বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. নুরজাহান বেগম বলেন, কয়েকদিন পরপরই অ্যাসেম্বলির সময় জেব্রাক্রসিং ও রাস্তার ডানদিক দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তা শিক্ষার্থীদের জানানো হয়। সেইসাথে শ্রেণিকক্ষে ও ইংরেজি পাঠ্যপুস্তকে জেব্রাক্রসিং সম্পর্কে উল্লেখ আছে। শিক্ষার্থীরা সেখান থেকেও জানতে পারছে। কিন্তু কেন জেব্রাক্রসিং শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করে না।

অটোরিকশা চালক সিরাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হয়, জেব্রাক্রসিং আসলে কী। নগরীর সাহেববাজারে আছে কি? জবাবে তিনি জানেন না বলে আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। আরেক সিএনজির চালক ফেরদৌস বলেন, জেব্রাক্রসিং কী জানি। কিন্তু মানি না। এখন থেকে মেনে চলবো।

 

নগরীর শরিফা, আব্দুর রাজ্জাকসহ বেশ কয়েকজন পথচারী জানান, জেব্রাক্রসিংয়ের ব্যাপারে শুনেছি। কিন্তু এ সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। আর এ ব্যাপারে রাজশাহীতে কাউকে কোনো দিন নিয়ম মেনেও চলতে দেখেনি। ট্রাফিক পুলিশও জেব্রাক্রসিং কীভাবে পার হতে হয়, তা দেখিয়ে দেয়নি।

জেব্রাক্রসিং ব্যবহার না করার ব্যাপারে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এই সম্পর্কে তাদের ধারণা আছে। জেব্রাক্রসিংয়ের ব্যবহারে চালক ও পথচারীরা অভ্যস্ত না হওয়ায় ব্যবহার করা হয় না।

সচেতনতা সৃষ্টিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে উদ্যোগের ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে এগুলো জনগণের দায়িত্ব। তাই জনগণকেই সচেতন হতে হবে।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ রাজশাহী শাখার সহ-সভাপতি ওয়ালিউর রহমান বাবু বলেন, জেব্রাক্রসিং কী এবং কেন ব্যবহার করবেন, কেন ওভারব্রিজ ব্যবহার করবেন, গাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াত করবেন নাÑএসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে চেতনা সৃষ্টি করি। কিন্তু পথচারীরা তা মানতে চায় না। আবার অনেক অল্প বয়সী চালক কিংবা অদক্ষ চালকরাও তা বুঝে না। এতে করে নিয়ন্ত্রিতভাবে পথচারী কিংবা গাড়ি যাতায়াত করে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগ্রত করতে হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ( ট্রাফিক) ইফতেখায়ের আলম বলেন, জেব্রাক্রসিং সম্পর্কে বিভিন্ন এলাকায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমরা ট্রাফিক বিভাগ থেকে এসব বিষয়ে কাজ করছি। তবে অনেকেই মানছে না। ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা না বাড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।