নাটোরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ




নাটোরনাটোর -২ ( সদর) আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পৃথক হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জেলা জামায়াতের আমিরসহ সাত জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিএনপির দাবি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক জানান, ‘বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরের সুকুলপট্টি এলাকায় প্রচারণায় যান ধানের শীষের প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি। এ সময় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের প্রচারণায় হামলা করে। প্রচারণার মাইক ভাঙচুর ছাড়াও হামলায় আহত হয় যুবদল নেতা আলমগীর।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া এলাকায় স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা দিঘাপতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় লোহার রড দিয়ে আবুল কালাম আজাদের হাতে ও পায়ে আঘাত করা হয়। হামলায় তার হাতের দুটি আঙ্গুল ভেঙে যায়। এছাড়া একই ইউনিয়নের বিএনপির সহ-সভাপতি, অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য আবুল হোসেন গেদুর ওপর হামলা চালানো হয়। গেদুকে মারপিট করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় একই সময়ে সিংড়া উপজেলার কালিগঞ্জ ত্রিমোহনী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ও জেলা জামায়াতের আমীর বেলাল উজ্জামানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ১১টার দিকে জামানকে পিটিয়ে আচড়াখালী নামক স্থানে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন বেলাল উজ্জামানকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে শহরের স্টেশন এলাকায় এনএস সরকারি কলেজ মাঠের কাছে যুবদল নেতা মোজাম্মেল হক বাবুকে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা। তাকে বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’


অপরদিকে নলডাঙ্গা উপজেলার পৌর বিএনপি নেতা মজিবুল কাদিকে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা পিটিয়ে আহত করেছে বলে দাবি করেন আমিনুল হক।


আমিনুল হক দাবি করেন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ছবির প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় ভীতি সঞ্চার হয়েছে নৌকা প্রতীক প্রার্থীদের মধ্যে। এই ভীতি থেকেই ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীর প্রচারণায় বিঘ্ন সৃষ্টি করার উদ্দেশেই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই।

ধানের শীষ প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি অভিযোগ করে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে কোনও প্রচারণা যেন না হয়, কেউ যেন প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে না পারেন, সেজন্যই আতঙ্ক আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক শেখ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনও হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগ বা যুবলীগের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহরিয়াজ জানান, এ ব্যাপারে এখনও লিখিত কোন অভিযোগ পাননি তিনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।