রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রথম বর্ষে আরবি বিভাগে ভর্তি হওয়া সেই রাজিয়া সুলতানা রুমকির মায়ের কোলে চড়ে তিন তলায় ওঠা-নামার সমস্যার দিকটা চিন্তা করে তাকে বাংলা বিভাগে (নিচতলায়) ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান রুমকিকে বাংলা বিভাগে ভর্তির কথা জানান।
রাজিয়া সুলতানা রুমকি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার দুপুরে আমি উপাচার্য স্যারের সঙ্গে দেখা করি। সেখানে উপাচার্য স্যার আমাকে আরবি (তিন তলা) থেকে বাংলা বিভাগে (নিচতলা) ট্রান্সফারের কথা জানান এবং আমাকে একটি দরখাস্ত দিতে বলেন। আর আমি বাংলা বিভাগে পড়তে চাই। কারণ, বাংলা বিভাগ নিচতলায় হওয়ায় সেখানে ক্লাস করা আমার পক্ষে সুবিধাজনক হবে।’
এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান জানান, রুমকিকে দরখাস্ত দিতে বলেছি। সে বাংলা বিভাগে ভর্তি হতে চেয়েছে। তার সমস্যার দিকটা চিন্তা করে তাকে বাংলা বিভাগে (নিচতলায়) ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী মহানগরীর পাঠানপাড়া এলাকার হাফিজুর রহমানের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা রুমকি। রুমকির মা নাজনীন বেগম পেশায় গৃহিণী। বাবা হাফিজুর রহমান ও মা নাজনীন বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে রুমকি বড়। জন্মগতভাবে দুই পা বিকল হওয়ায় রুমকি নিজের পায়ে ভর দিয়ে চলতে পারেন না। তাই মায়ের কোলে চড়েই তিনি পার করেছেন মাধ্যমকি ও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে রুমকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। আরবি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা শহীদুল্লাহ্ কলাভবনের তিন তলায় হয়। কিন্তু রুমকির মায়ের পক্ষে প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় মেয়েকে ওঠানো-নামানো কষ্টকর। তাই তারা বিভাগ পরিবর্তনের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন এবং বাংলা বিভাগে ট্রান্সফারের আবেদন জানান। কারণ বাংলা বিভাগের ক্লাস নিচতলায় হয়।
এ ঘটনা জানার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এহসান রুমকিকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার কাছে যান। এসময় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানুসহ কয়েকজন সহকারী প্রক্টর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রুমকি তার তিন তলায় ওঠা-নামার সমস্যা কথা জানিয়ে বিভাগ পরিবর্তনের আবেদন জানান। ওইদিন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া বিষয়টি বিবেচনার কথা জানান। এরপর রুমকিকে নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনেও সংবাদ প্রকাশ হয়। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমলে নিলো রুমকির আবেদন।
আরও পড়ুন–