হিলিতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

হিলি স্কুলে নেই শহীদ মিনার (ছবি– প্রতিনিধি)

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার সরকারি-বেসরকারি ১০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২টিতেই শহীদ মিনার নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনও কোনোটির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি ফলকে গিয়ে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকেন। আর কিছু প্রতিষ্ঠানে শহীদ দিবসই পালন করা হয় না।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি কলেজ, ১১টি দাখিল মাদ্রাসা, ৪টি ফাজিল মাদ্রাসা ও একটি আলিম মাদ্রাসা ও ১৯টি কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল রয়েছে।

এ সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও উপজেলার মাত্র ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোসহ ৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও শহীদ মিনার নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদরে অবস্থিত ৭টি মাদ্রাসা, সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিন কলেজের একটিতেও নেই শহীদ মিনার। এই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, শহীদ মিনার না থাকায় শহীদ দিবসে তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি ফলকে গিয়ে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসেন।

হিলির ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ বাংলাহিলি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলা হিলি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সদ্য জাতীয়করণ হওয়া হাকিমপুর ডিগ্রি কলেজেও নেই শহীদ মিনার। তবে উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের বোয়ালদাড় উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, খাট্রাউছনা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলীহাট ইউনিয়নের জাংগই উচ্চ বিদ্যালয়, মনশাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কোকতাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে।

বাংলাহিলি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, বালিকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হাকিমপুর ডিগ্রি কলেজ ও মহিলা ডিগ্রি কলেজের কয়েক জন শিক্ষার্থী জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় তারাও উপজেলা পরিষদ চত্বরের শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন। নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করার দাবি জানান তারা।

হিলি কলেজে নেই শহীদ মিনার (ছবি– প্রতিনিধি)

বাংলাহিলি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাসিনুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ কলেজে শহীদ মিনার থাকা জরুরি; সেটা এখনও করা যায়নি। বিদ্যালয়ের আগের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় নতুন প্রধান শিক্ষক গত ডিসেম্বর মাসে যোগ দিয়েছেন। তার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। অচিরেই এই প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে বলে আশা করছি।’

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আক্কাস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত দিনগুলোতে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা হয়তো পরিকল্পনার অভাবে শহীদ মিনার করতে পারেনি। আমি গত জুন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। আমি মনে করি, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার হওয়া দরকার। আমারও ইচ্ছা, অচিরেই এই কলেজে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করার।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এর পেছনে স্থানীয় জনগণ ও বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেজি স্কুলগুলোর একটিতেও শহীদ মিনার নেই। তবে আমরা কেজি স্কুলগুলোতে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য শিক্ষকদের উদ্ধুদ্ধ করছি।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বোরহান উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপজেলার ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টিতে শহীদ মিনার ছিল। নতুন করে আরও দুইটিতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে; তারা (প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ) তাদের নিজস্ব অর্থায়নে সেগুলো নির্মাণ করেছে। বাকি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়, সে জন্য ওই সব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’