শিশুকে হত্যার পর লাশ গুমের মামলা: তিন সহপাঠীকে আটকাদেশ

নাটোরনাটোরের আশরাফুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যার পর লাশ গুম করার মামলায় একই মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে আটক আদেশ দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে দুইজনকে ১০ বছর এবং অপরজনকে ৫ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে নাটোরের শিশু আদালতের বিচারক মো. মাইনুল হক এই আদেশ দেন।

নাটোর কোর্টের পি পি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এবং নাটোর কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক আদেশপ্রাপ্তরা হলো জেলার সিংড়া উপজেলার জোড় মল্লিকা গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে হুমাইদ (১৫), বাগাতিপাড়া উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাবুল হাসানের ছেলে বাইজিদ হাসান (১৪) এবং সদর উপজেলার কালুর মোড় এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে নাঈম (১৫)।

নাটোর কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমান এবং জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট নাটোর শহরের আলাইপুর এলাকায় আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শহরের উত্তর বড়গাছা এলাকার সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে তানভীরকে হত্যার পর তার মৃতদেহ মাদ্রাসার সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লুকিয়ে রাখে একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হুমাইদ, বাইজিদ ও নাঈম। অভিযোগ পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা ১ সেপ্টেম্বর মৃতদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে হুমাইদ, বাইজিদ ও নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সুকুমার দেবনাথ ওই বছরের ২৫ অক্টোবর আদালতে দোষীপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অভিযুক্ত হুমাইদ ও বাইজিদকে বিভিন্ন ধারায় ১০ বছর, পাঁচ বছর এবং তিন বছরের আটক আদেশ দেন। তবে তিনটি আদেশ একইসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাদের প্রত্যেকের আটক আদেশ হবে ১০ বছরের। অপরদিকে নাঈমের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক ধারায় পাঁচ বছর এবং তিন বছরের আটক আদেশ দিয়েছেন বিচারক। দুটি আদেশ একইসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকেও পাঁচ বছর আটক থাকতে হবে।