মাদারীপুরে নামমাত্র টাকায় গরুর হাট ইজারা, রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

মিঠাপুর বাজার অস্থায়ী গরুর হাটমাদারীপুরে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ধরনের গরুর হাট নামমাত্র মূল্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাট চললেও সরকারিভাবে ইজারা মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এমনকি সরকারি কোষাগারে ইজারার টাকা এখনও জমা হয়নি কোনও অস্থায়ী গরুর হাটের। অথচ প্রশাসনের মৌখিক অনুমোদন নিয়ে চলছে এসব গরুর হাট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি হাটে প্রতিদিনই সর্বনিম্ন পঞ্চাশ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচশ’ পর্যন্ত গরু-ছাগল বিক্রি হয়। প্রতিটি গরুতে এক হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত হাসিলা বা খাজনা আদায় করা হয়। এভাবে প্রতিটি অস্থায়ী হাটে প্রতিদিনের হাসিলা আদায় হয় এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। স্থানভেদে মাদারীপুরের অস্থায়ী ও স্থায়ী হাটগুলো ঈদের আগে সর্বনিম্ন দুই থেকে চার বা পাঁচ দিন হয়। যে হারে হাটের হাসিলা আদায় সেই অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে টাকা জমা হয় না।

মাদারীপুর সদর উপজেলা থেকে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী এবারের অস্থায়ী হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে- মিঠাপুর বাজার, শ্রীনদী হাট সংলগ্ন নদীরপাড়, ধুরাইল হোসেনের হাট, ঘটকচর বালুরমাঠ, ব্রাহ্মন্দি শিমুলতলা বাজার, মাদ্রা বাজার, পেয়ারপুর বেড়িবাঁধ, সমাদ্দার কাঠেরপুল, শিরখাড়া আদেলউদ্দিন হাওলাদার স্কুল সংলগ্ন মাঠ এবং পশ্চিম রাস্তি বালুর মাঠ। একই অবস্থা জেলার অন্য তিনটি উপজেলার ক্ষেত্রেও।

এদিকে মাদারীপুর সদরের শিরখাড়া ইউনিয়নের পুরান রাজারহাটটি স্থায়ী পশুর হাট হিসেবে প্রতি বছর চার লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন বদর মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পাশেই মাত্র আধ কিলোমিটারের মধ্যে অন্যায়ভাবে একটি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সারাবছর নামমাত্র সংখ্যক গরু-ছাগল বিক্রি হয় হাটে। যা আয় হয় তা কুরবানির ঈদে। এবার এই অস্থায়ী হাটের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। হয় প্রশাসন সেটি বন্ধ করে দিক, না হয় আমাদের স্থায়ী হাটের ইজারার টাকা ফেরত চাই।’

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন গিয়াসের কাছে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারামূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এলাকার তহসিলদারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইজারার টাকা আদায় করা হবে।’ তবে ইজারার অনুমোদন না নিয়ে এবং রাজস্ব পরিশোধ না করে হাট চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত ইজারা মূল্য নির্ধারণ ও আদায় করা সম্ভব হয়নি।’ মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জনগণ যাতে একটু কম টাকা হাসিলা দিয়ে গরু কিনতে পারেন, তাই ইজারা মূল্য বেশি নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় না। তবে ঈদের পর অফিস শুরু হলেই ইজারার টাকা আদায় করা হবে।’