রোহিঙ্গাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া কর্মকর্তাসহ সাত ক্যাম্প ইনচার্জকে বদলি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পরোহিঙ্গাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) শামীমুল হক পাভেলসহ সাত ক্যাম্প ইনচার্জকে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে তাদের বদলি করা হয়। তবে আদেশে তাদের বদলির কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালামকেও বদলি করা হয়েছে।

শামীমুল হক পাভেল দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ৩/৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্বপালন করে আসছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ অধিশাখার উপসচিব মুহাম্মদ আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালামকে (অতিরিক্ত সচিব)  আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্য নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যোগদানে ব্যর্থ হলে তিনি স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন বলে গণ্য হবে এবং আপনা-আপনি কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হবেন বলে ধরে নেওয়া হবে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মাহবুব আলম তালুকদারকে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্যাম্প ইনচার্জদের বদলির বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ৩/৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ শামীমুল হক পাভেলকে বদলি করা হয়েছে ঢাকায়। সেখানে বিমান বন্দর এক্সটেনশনের উপ প্রকল্প পরিচালক পদে তাকে বদলি করার কথা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে কিছু জানি না।’

প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘শুনেছি ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মহাসমাবেশ করার অনুমতির একটি আবেদনের বিষয়ে তিনি কাউকে কিছুই জানাননি। তবে তার বদলির আদেশে এই রকম কিছু লেখা নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, শামীমুল হক পাভেল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্যাম্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধুরছড়ায় রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এজন্য তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কারণ, ওইদিন রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ সমাবেশের অনুমতির জন্য ‘সিআইসি’ হিসেবে তার কাছে আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সমাবেশের মৌখিক অনুমতি প্রদান করেন তিনি। মূলত এই কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শামীমুল হক পাভেল বলেন, ‘আমি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে এসেছি। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহর স্বাক্ষরিত একটি আবেদন আমার কাছে নিয়ে আসেন। স্বাভাবিকভাবে কেউ আবেদন নিয়ে আসলে সেটি রিসিভ করা আমার দায়িত্ব। তাই আমি আবেদনটি রিসিভ করেই তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমার ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ আমাকে কিছুই বলেননি। তাই আমিও রোহিঙ্গাদের অনুমতির ব্যাপারে কিছু বলিনি। এরই মাঝে রোহিঙ্গারা সমাবেশ করে। এর বেশি কিছু না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘ দুই বছরে ধরে চাকরি করছি। চাকরির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ীই আমাকে বদলি করা হয়েছে। অফিস যখন চাইবে, তখনই চলে যাবো।’

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম নিজের বদলির খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘শুধু শামীমুল হক পাভেল নয়। এক সঙ্গে সাত জন সিআইসিকে বদলি করা হয়েছে। মূলত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বদলির আদেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোহিঙ্গাদের সমাবেশের কারণ তাকে বদলি করার বিষয়টি সত্য নয়।’