সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ: রমেক অধ্যক্ষসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালপ্রয়োজন না থাকার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের জন্য (রমেক)  ব্যবহার অনুপযোগী ও নিম্নমানের চিকিৎসা সামগ্রী ও বিভিন্ন মালামাল কেনা বাবদ সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নুর ইসলামসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রংপুর দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল বাছেত মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির মালিক মো. জাহের উদ্দিন সরকার, মো. আব্দুস সাত্তার সরকার, মো. আহসান হাবিব, ইউনিভার্সাল ট্রেড করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুর রহমান এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়াত হোসেন চন্দন।

মামলার বাদী দুদক প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপসহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, রমেকে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পূর্বানুমোদন ব্যতীত এসব কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য রমেক অধ্যক্ষ ডা. মো. নুর ইসলাম বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেন। তিনি যথাযথ চাহিদা ও স্পেসিফিকেশন ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করেন এবং পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি’ কে কার্যাদেশ দেন। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালের ২১ জুন দরপত্র মূল্যায়ন করে একই তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। ২৩ জুন তারিখে কার্যাদেশ দেন। কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ প্রাপ্তির পঞ্চম দিনে ২৭ জুন তারিখে কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করলেও নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য রমেক অধ্যক্ষ তাদের দাখিলকৃত বিল পাস করেন। প্রশাসনিক অনুমোদনসহ ব্যয় মঞ্জুরী পাওয়ার আগেই বিল স্বাক্ষর করে জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে দাখিল করেন।

রমেক অধ্যক্ষ এভাবে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির মালিক মো. জাহের উদ্দিন সরকারকে চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেছেন। দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ও দরপ্রস্তাব দাখিলকারী বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোং এর স্বত্বাধিকারী মো. জাহের উদ্দিন সরকার, মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী যথাক্রমে মো. আব্দুস সাত্তার সরকার (জাহের উদ্দিন সরকারের বাবা) ও আহসান হাবীব (জাহের উদ্দিন সরকারের ছেলে) এবং ইউনিভার্সাল ট্রেড করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুর রহমান (জাহের উদ্দিন সরকারের বোন জামাই) পরিচয় গোপন করে পরস্পর যোগসাজশে সিন্ডিকেট করে সাজানো দরপত্র দাখিল করেন। তারা কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে এই সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়াত হোসেন একাই বাজার দর কমিটি, দরপত্র উম্মুক্তকরণ কমিটি, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও সার্ভে কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নন-ক্লিনিক্যাল কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি চারটি কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নিজে অবৈধভাবে লাভবান হয়ে কমিটি সমূহের সদস্য সচিব হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে পরস্পর যোগসাজশে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোং এর স্বত্বাধিকারী মো: জাহের উদ্দিন সরকারকে সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেছেন।

এ কারণে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর এবং মামলা নম্বর ৫।

এদিকে রংপুর দুদক কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিশ্চুক এ প্রতিনিধিকে জানান আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চলছে।