বুড়িগঙ্গায় উদ্ধারের ২০ দিন পর কিশোরের লাশ শনাক্ত, আটক ৪

কেরানীগঞ্জ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীতে থেকে উদ্ধার হওয়ার ২০ দিন পর এক লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম মো. পারভেজ (১৬)। শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার বাঁশেরচর গ্রামে তার বাড়ি। রাজধানীর লালবাগ শহীদ নগর এলাকায় তার মামার বাসায় থাকতো সে।

শনিবার (৫ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এই ঘটনায় নিহতের মামা মো. বাবু বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে, শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পারভেজের লাশ শনাক্ত করেন তিনি।

তারপর রাতেই ইমন (১৯),ফাহিম হোসেন (১৮),সিহাব হোসেন (১৭) ও আলম (১৭) নামে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মো. ফিরোজ উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর নিহত পারভেজ নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় তার ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। ক্রিকেট খেলা শেষে মামাতো ভাই ইমন ও অপর দুই কিশোর সিহাব এবং আলমের সঙ্গে ফতুল্লার মুন্সীখোলা বরাবর বুড়িগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নামে। এসময় পারভেজ নদীতে হঠাৎ ডুবে যায়। এরপর বাকি তিনজন নদীর পাড়ে উঠে আসে। তারা পারভেজের গেঞ্জিটিও নদীতে ফেলে দেয় এবং পারভেজের মোবাইল ফোনটি ইমন নিয়ে যায়। কিন্তু ইমন এই ঘটনাটি তার পরিবারের কাছে জানায়নি।

১৬ সেপ্টেম্বর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে পারভেজের লাশ অজ্ঞাত হিসেবে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত পারভেজের মামা বাবুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পারভেজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শুক্রবার রাতেই পারভেজের মামাতো ভাই ইমনকে ফতুল্লাহ থেকে আটক করা হয়। পরে ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাহিম, সিহাব ও আলমকে আটক করা হয়।

এটি হত্যা নাকি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা তা তদন্ত সাপেক্ষে ও ময়না তদন্তের রিপোর্টের মাধ্যমেই বলা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।